উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলা (Missile assault) চালিয়েছে আমেরিকা (US-Iran Battle)। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস ও গোরগান সহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পালটা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, কেবল একদিনেই ৪৯টি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি সহ কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান এবং এই পথে অতিক্রমকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনও মার্কিন রণতরী আক্রান্ত হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে তেহরান আমেরিকার সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগের দাবি অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনার পারদ এখন চরম সীমায়। একদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর আঘাতের হুমকি, অন্যদিকে তেহরানের পালটা হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চলটি এখন যুদ্ধের দোরগোড়ায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে, কারণ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
