উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এরই মাঝে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US-Iran Battle)। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার পালটা পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
বুধবার ন্যাটো সম্মেলন থেকে ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা আজ রাতে তাদের ওপর বড় হামলা চালাব।’ এরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইরানের বন্দর আব্বাস, চাবাহার, কোনারাক সহ দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। চাবাহারে একটি ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও বন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি একটি হাসপাতালের কাছে হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুয়েত ও বাহরিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পালটা ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে সূত্রের খবর, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি আর ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের সূত্রপাতের পর এই নতুন উত্তেজনা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই হামলার খবরের পর অপরিশোধিত তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) ব্যারেল প্রতি ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯.২৮ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও আমেরিকার এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হবে এবং এটি অঞ্চলটিকে আগের চেয়ে নিরাপদ করবে। তবে বাস্তবতা হল, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

