উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকৃত দেশগুলির ওপর একশো শতাংশ পর্যন্ত চড়া শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকারী এক নতুন মার্কিন বিল (US invoice Russian oil tariffs) ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেনেটে এই সংক্রান্ত বিল পাশ হওয়ার পরই প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের কোটি কোটি মানুষের জ্বালানি সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে ভারত।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে সদ্য পাশ হওয়া ‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ (Sanctioning Russia and Iran Act of 2026)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া বা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সমর্থনকারী দেশগুলির ওপর প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump)। বিশেষ করে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা কিংবা ছায়া নৌবহর ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্যকারী দেশগুলির পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর সংস্থান রয়েছে এই বিলে।
এই আইনের আওতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির ওপর খাঁড়া ঝুলতে পারে। ভারত ও চিন ছাড়াও এই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলি। শুধু তাই নয়, প্রতি ১৮০ দিন অন্তর এই ক্রেতা দেশগুলির তালিকা পর্যালোচনা করে শুল্কের হার কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি। সেনেটের পর এবার বিলটি মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। মার্কিন এই পদক্ষেপের বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, নয়াদিল্লি পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়সওয়াল পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের শক্তির উৎস সবসময়ই বহুমুখী এবং তা নির্ধারিত হয় দেশের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে। আমেরিকার মতো দেশগুলি থেকেও শক্তির জোগান নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে ভারত।

