চালসা: সরকারি জমি দখল করে কুর্তি নদীর চরে গড়ে তোলা হয়েছিল বিলাসবহুল রিসর্ট। শুক্রবার প্রশাসনের কড়া হস্তক্ষেপে অবশেষে আর্থমুভার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সেই রিসর্ট (Unlawful resort demolition)। মাল মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডাল, মাটিয়ালি জয়েন্ট বিডিও প্রকাশ প্রামাণিক এবং মেটেলি থানার পুলিশের (Matelli Police) উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মাটিয়ালি বাতাবারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালডাঙ্গা এলাকায় কুর্তি নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিল এই রিসর্টটি। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ১০-১২ বছর আগে দখল করা এই জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র রিসর্ট কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। গত ৪ জুলাই মাল মহকুমা প্রশাসনের তরফে রিসর্টটিতে নোটিশ লাগানো হয়েছিল। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও রিসর্ট কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। বাধ্য হয়েই শুক্রবার প্রশাসনের আধিকারিকরা রিসর্টের সমস্ত সামগ্রী নিজেদের হেপাজতে নেন। জানা গিয়েছে, পরবর্তীকালে নিয়ম মেনে সেগুলি নিলাম করা হবে।
রিসর্টটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরই এলাকার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। অভিযোগ, রিসর্টের মালিক সৌমেন মালাকারের সঙ্গে কলকাতার এক প্রভাবশালী তৃণমূল (TMC) নেতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই রাজনৈতিক আশ্রয়েই সরকারি জমি দখল করে রিসর্ট তৈরির সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি। নাগরাকাটা বিধানসভার বিধায়ক পুনা ভেংরা এ প্রসঙ্গে বলেন, “সরকারি জমি দখল করে কোনো অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূল জমানার দুর্নীতির ফলেই এসব সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে যে জায়গায় রিসর্টটি রয়েছে সেই জায়গার উপর দিয়ে একসময় কুর্তি নদী প্রবাহিত হতো। কার্যত নদীর মূল প্রবাহের ধার ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে ওই রিসর্ট। সরকারি জমি উদ্ধার ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে তৃণমূল জমানায় কীভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে সরকারি জমি দখল হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।

