Union Cupboard | রাজু না জয়ন্ত, চর্চা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব নিয়ে

Union Cupboard | রাজু না জয়ন্ত, চর্চা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব নিয়ে

শিক্ষা
Spread the love


নবনীতা মণ্ডল ও সানি সরকার, নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়ি: রাজ্য মন্ত্রীসভায় ১০ জনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভাতেও (Union Cupboard) ঠাঁই পেতে চলেছে উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। চলতি মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার রদবদলের সম্ভাবনা। তাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়ের পর সেই পদক্ষেপ হবে বলে আগাম খবর ছিল। বাংলার একাধিক বিজেপি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে আনার কথা চলছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে।

বাংলার একাধিক মন্ত্রী হলে অন্তত একজন থাকবেন উত্তরবঙ্গের। সেক্ষেত্রে দুজনের নাম ভাসছে। একজন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট। অন্যজন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়। দুজনই দু’বারের সাংসদ। উভয়েরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। এই দুজনের মধ্যে একজনকে ঠাঁই দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায়। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়িকে ঘিরে রাজুর প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে।

গোটা দার্জিলিং জেলা এখন বিজেপির কবজায়। জলপাইগুড়ি জেলার ৭টি বিধানসভা আসনের ৭টিতেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। কিন্তু রাজ্য মন্ত্রীসভায় জলপাইগুড়ির একজনও স্থান পাননি। এই নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় দলের মধ্যে বিস্ময় ও কিছুটা অসন্তোষ আছে। দলের অন্দরের খবর, জয়ন্তকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে তাঁর জেলা থেকে রাজ্যে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। এভাবে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা হয়েছে। দার্জিলিং জেলা থেকে দুজন রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন- শংকর ঘোষ ও আনন্দময় বর্মন। তা সত্ত্বেও রাজু বিস্টের নাম নিয়ে জল্পনার অন্যতম কারণ পাহাড় রাজনীতির সমীকরণ। গত কয়েক বছর ধরে একদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, অন্যদিকে জিএনএলএফ-কে বিজেপির সঙ্গে বেঁধে রাখতে রাজুর ভূমিকা আছে। যদিও মন্ত্রিত্বের ব্যাপারে দার্জিলিংয়ের সাংসদ বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে আমার কাছে কোনও খবর নেই। তবে আমি দলের প্রয়োজনে যে কোনও দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।’

রাজুর শেষ মন্তব্যটি যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। অন্যদিকে, বুধবার রাতে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন জলপাইগুড়ির সাংসদ। তিনি ফোনে বলেন, ‘দিল্লি এসেছি আমার লেখা বইয়ের উদ্বোধনের জন্য। বৃহস্পতিবার বইটি উদ্বোধন করবেন উপরাষ্ট্রপতি। আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাচ্ছি, এমন খবর জানা নেই।’ তবে বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ডাক পেয়ে তড়িঘড়ি দিল্লি পৌঁছেছেন। বইয়ের উদ্বোধন উপলক্ষ্য মাত্র। সেই কর্মসূচিও ঠিক হয়েছে বুধবার দুপুরের পর।

রাজু বা জয়ন্ত যিনিই সুযোগ পান না কেনও, তাতে নিঃসন্দেহে কেন্দ্রে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে। আপাতত বাংলা থেকে দুজন মন্ত্রী আছেন- সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর। দুজনই প্রতিমন্ত্রী। পূর্ণমন্ত্রিত্বে তাঁদের কেউ উন্নীত হবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণবঙ্গ থেকে আরও মন্ত্রী হওয়ার জল্পনাও আছে বিজেপিতে।

তবে তৃণমূলের যে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগ দিয়ে এনডিএ-র শরিক হয়েছেন, তাঁদের আপাতত মন্ত্রী করা হবে না বলে জানা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এঁদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। এখন এই সাংসদরা মন্ত্রী হলে বাংলায় দলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের মন্ত্রী না করার সিদ্ধান্ত। যদিও এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার পর জল্পনা ছড়িয়েছিল যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকারকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করা হতে পারে। আসন্ন রদবদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় বেশকিছু মহিলা মুখকে দেখা যেতে পারে। সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই মন্ত্রীসভার সম্প্রসারণ এবং রদবদলের সম্ভাবনা।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ ২১ জুন শেষ হয়ে যায়। বিজেপি তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভায় মনোনীত করেনি। আরেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টুকেও বিজেপি রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনীত না করলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি সংসদ সদস্য না হয়েও ছয় মাস তিনি মন্ত্রী থাকতে পারবেন।

এনডিএ-র অন্য দুই বড় শরিক তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর পক্ষ থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর দাবি উঠতে পারে বলে এনডিএ শিবিরে গুঞ্জন আছে।

(তথ্য সহায়তা : পূর্ণেন্দু সরকার)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *