Underground railway | শত্রুর নজর এড়াতে ‘চিকেন নেক’-এ ভূগর্ভস্থ রেলপথ, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক!

Underground railway | শত্রুর নজর এড়াতে ‘চিকেন নেক’-এ ভূগর্ভস্থ রেলপথ, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: চিকেন নেকের (Rooster’s Neck) সুরক্ষায় বছর দেড়েক আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ (Underground railway) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রস্তাব মেনে স্পর্শকাতর এলাকায় সমীক্ষাও করে রেল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের যৌথ দল। মাস ছয়েক আগে সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেইমতো উত্তর দিনাজপুরের তিনমাইলহাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙ্গাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো (Ashwini Vaishnaw)। সেনা সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অসম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হতে পারে। জাতীয় সুরক্ষায় ওই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন সেনাকর্তারা। যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’ হতে পারে ওই সুড়ঙ্গপথ।

​সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে রেলমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই শোরগোল পড়েছে প্রশাসনিক মহলে। শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব যে দিল্লির কাছে কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রেলের অন্দরমহলের খবর, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর’-এর সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপও করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল গড়বে রেল। কেন এই রুট? মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যাবে, মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া চিকেন নেকের মধ্য দিয়ে যাতায়াতে এতদিন মাটির ওপরের পথই ছিল সব ভরসা। ফলে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ করা নিয়ে উঠছিল নানা প্রশ্ন। বিকল্প ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জরুরি। আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর সেই সমস্যা অনেকটাই মেটাবে। রেল সূত্রে খবর, মাটির প্রায় ২৫ মিটার গভীরে তৈরি হবে জোড়া সুড়ঙ্গপথ। পাশাপাশি নির্দিষ্ট অংশে মাটির উপরে বর্তমানে থাকা দুটি লাইন বেড়ে হবে চারটি। যদিও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হওয়ায় এই প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি রেলকর্তারা। এডিআরএম (এনজেপি) অজয় সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কত ট্যাংক বা সেনা পাঠানো হচ্ছে সব ওপর থেকে দেখে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাটির নীচে রেললাইন থাকলে শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে। সুড়ঙ্গপথে সেনা আর রসদ সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। বাগডোগরা বিমানঘাঁটি কাছে থাকলেও খারাপ আবহাওয়ায় আকাশপথ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই অনেকসময় রেলই হয়ে ওঠে মূল ভরসা।

​সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে রেলমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেহেতু শিলিগুড়ির মাটি পাথুরে নয় এবং এলাকাটি সমতল, তাই এখানে টানেলের জন্য মাটি কাটা অনেক সহজ হবে। রেলের বাস্তুকারদের দাবি, কাজ শুরু হলে খুব দ্রুতই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করা যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক বাস্তুকারের বক্তব্য, ‘এখানে টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে সহজে সুড়ঙ্গ তৈরি করা যেতে পারে। তাই কাজ করতে বেশি সময়ও লাগবে না।’ তবে কোনও নিরাপত্তা সংস্থার কর্তারাই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করতে চাননি। এসএসবি’র উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি বন্ধন সাক্সেনা এবং রাজ্য পুলিশের উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদব পুরোটা শোনার পর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *