UCC invoice | পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? চলতি অধিবেশনেই বিল পেশের সম্ভাবনা

UCC invoice | পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? চলতি অধিবেশনেই বিল পেশের সম্ভাবনা

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও অসমের পথে হেঁটে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) কার্যকর করার পথে হাঁটছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই চলতি বিধানসভা অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল (UCC invoice) পেশ করা হতে পারে। এই বিল পাশ হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে দেশের চতুর্থ বিজেপি-শাসিত রাজ্য, যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর হবে।

নতুন রাজ্য সরকারের দাবি, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি অভিন্ন আইন চালু হলে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে নারী-পুরুষের সমানাধিকার ও লিঙ্গ-সমতা প্রতিষ্ঠায় বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অসমের আদলে এই বিলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে নারী অধিকার সুরক্ষা ও বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলিকে।

তবে বিলটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। অসমের ধাঁচেই পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত বিলে পাহাড় ও জঙ্গলমহলের জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রথাগত অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, অসমের বিলে জনজাতিদের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে তাদের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য বিঘ্নিত না হয়। পশ্চিমবঙ্গেও সেই নীতি মেনে চলা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় এই বিল পেশ হওয়া মাত্রই এটি রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে। বিজেপি এই উদ্যোগকে ‘সব নাগরিকের জন্য সমান আইন’ এবং ‘সুশাসনের’ পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রচার করবে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির ইতিমধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নে এর তীব্র বিরোধিতার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অতীতে অসম বিধানসভাতেও এই বিল নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা গিয়েছিল।

সরকার পক্ষ যদিও বারবার দাবি করছে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতির (Directive Ideas) একটি দীর্ঘদিনের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই তাদের লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী সপ্তাহে বিলটি পেশ করার সময় নবান্ন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয় এবং বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে এই উত্তপ্ত আবহে বিরোধীরা কীভাবে মোকাবিলা করে। একদিকে সমানাধিকারের দাবি, অন্যদিকে ধর্মীয় ও প্রথাগত স্বাধীনতার বিতর্ক—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় এক নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *