আলিপুরদুয়ার ও কালচিনি: বক্সায় (Buxa) বাঘ আনার জন্য জয়ন্তী গ্রাম স্থানান্তর করার পরিকল্পনা যতটা এগিয়ে যাচ্ছে বারবার কিছু না কিছু বাধা হচ্ছে। জয়ন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জায়গা চিহ্নিত করতে গেলে এবার বাধার মুখে পড়তে হল প্রশাসনিক আধিকারিকদের। দীর্ঘদিন থেকে চাষবাস করা জমি ছাড়তে নারাজ বিজয়পুর বস্তির বাসিন্দারা। কাজে বাধা পেয়ে এদিন ফিরতে হয় আধিকারিকদের। আগামীতে আলোচনা করে জায়গা চিহ্নিত করা হবে বলেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জয়ন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের কালচিনি ব্লকের বনছায়া গ্রামে পুনর্বাসন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। এই বনছায়া এক সময় বিজয়পুর বস্তির অন্তর্গত ছিল। তবে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বস্তি পুনর্বাসনের পর ওই জায়গার নাম দেওয়া হয় বনছায়া বস্তি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নাম রেখেছিলেন। বনছায়া গ্রামে বর্তমানে যে জায়গা রয়েছে সেখানে জয়ন্তীর প্রায় ৪০০-র বেশি পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বিজয়পুর বস্তির আরও কিছুটা জায়গা চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেইমতো বুধবার কালচিনি ব্লক প্রশাসনের তরফে ভাটপাড়া চা বাগান সংলগ্ন ওই বিজয়পুর বস্তিতে জমি পরিদর্শন ও জমির মাপজোখ করতে যান প্রশাসনের লোকজন। সেখানে গিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়তে হল প্রশাসনিক আধিকারিকদের। বাসিন্দাদের দাবি, ওই এলাকায় তাঁদের পূর্বপুরুষরা একশো বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। ইতিমধ্যে কিছু বাসিন্দা জমির পাট্টা পেয়েছেন। সেজন্য তাঁরা জমির অধিকার ছাড়তে নারাজ।
এদিন কালচিনির (Kalchini) বিডিও মিঠুন মজুমদার, ব্লক ভূমি রাজস্ব আধিকারিক, কালচিনি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়পুর বস্তিতে যান। তবে জমির মাপজোখ শুরু হতেই স্থানীয়রা এসে বিরোধিতা শুরু করেন। ব্লক প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা না হলেও স্থানীয়দের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে বলে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকায় জমির মালিকানা নেই। সম্পূর্ণ এলাকা খাসজমি। সেই জমিতে স্থানীয় বাসিন্দারা চাষবাস করেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা শিবচরণ টোপ্পোর কথায়, ‘প্রায় ১ হাজার বাসিন্দা একশো-দেড়শো বছর ধরে বাস করছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় ১৫৬ জন বাসিন্দার জমির পাট্টা রয়েছে। অবশিষ্ট বাসিন্দারা পাট্টার জন্য আবেদনপত্র জমা করেছেন। বেশিরভাগ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বুনো হাতির উপদ্রবে অনেকেই চাষাবাদ বন্ধ করে সুপারি বাগান করেছেন।’
এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা প্রস্তাব দেন, জমি নিতে হলে বস্তির পেছনে বন দপ্তরের প্রচুর জমি রয়েছে। সেখান থেকে জমি নেওয়া হোক। স্থানীয় বাসিন্দারা কালচিনির বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে ফোনে জানিয়েছেন পুরো বিষয়টি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিশাল কালচিনি ফিরলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে যেহেতু রাজ্য সরকার বাঘ আনার পরিকল্পনায় জোর দিয়েছে এবং দ্রুত জয়ন্তী গ্রাম স্থানান্তর করার কথা বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে জমি চিহ্নিতকরণের কাজও দ্রুত করতে হবে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘পুনর্বাসন দিতে হলে তো জমির প্রয়োজন রয়েছে। বনছায়া গ্রামে জয়ন্তীর কিছু লোকেদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে এবং পাশে বিজয়পুরে কিছু লোকেদের দেওয়া হবে। সমস্যা যেটা হচ্ছে সেটাও মিটিয়ে নেওয়া হবে।’

