উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বর্ষাকাল মানেই জল জমে যাওয়া, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং নানা জলবাহিত রোগের উপদ্রব। ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি এই মরশুমে বিশেষ আতঙ্ক তৈরি করে টাইফয়েড (Typhoid Dangers)। ঠান্ডা লাগার সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির সঙ্গে টাইফয়েডের লক্ষণ সম্পূর্ণ আলাদা। ‘সালমোনেল্লা টাইফি’ নামক ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, মূলত দূষিত খাবার ও অপরিশোধিত জলের মাধ্যমেই এই অসুখ মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট ভুল অভ্যাসই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যে ভুলগুলিতে বাড়ছে টাইফয়েডের ঝুঁকি:
কাঁচা স্যালাড ও ফল: ফল বা কাঁচা স্যালাড খাওয়ার আগে সঠিকভাবে পরিষ্কার জলে না ধুলে টাইফয়েডের জীবাণু সহজে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। রান্নাঘরের সামগ্রী এবং বাসন সাবান দিয়ে পরিষ্কার না করার অভ্যাসও সমানভাবে বিপজ্জনক।
পরিচ্ছন্নতার অভাব ও হাত ধোয়া: রান্না করার সময় বা খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত না ধোয়ার প্রবণতা মারাত্মক ক্ষতিকর। রান্নার সামগ্রী বা সবজি সঠিকভাবে না ধুয়ে খোলা জায়গায় অনেকক্ষণ কেটে রেখে দিলে তাতে ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে।
অপরিশোধিত জলের ব্যবহার: রাস্তার ধারের কাটা ফল, শরবত বা ফুচকার জল টাইফয়েডের অন্যতম বড় উৎস। এছাড়া বাড়িতেও যদি ফোটানো বা পরিশোধিত জল না খেয়ে অপরিশোধিত জল খাওয়া হয়, তবে সংক্রমণের আশঙ্কা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
টাইফয়েড এড়াতে করণীয় ও সতর্কতা:
- বাইরে বের হলে সবসময় বাড়ি থেকে ফোটানো বা পরিশোধিত জলের বোতল সঙ্গে রাখুন। জলের বোতল নিয়মিত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- খাওয়ার আগে এবং রান্না করার সময় অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
- রাস্তার ধারের খোলা খাবার ও জল খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
- টানা ৩ দিন বা তার বেশি সময় ধরে জ্বর না কমলে, পেটের গন্ডগোল বা গায়ে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টাইফয়েডের টিকাও নেওয়া যেতে পারে।

