উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ (Kashmir Problem) তুলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পক্ষে সওয়াল করলেন তুরস্কের (Turkey) প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এর্দোগান (Recep Tayyip Erdogan)। নিউইয়র্কে আয়োজিত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (UNGA) দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রসংঘের সনদের নিয়ম মেনে দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিবাদের মীমাংসা হওয়া দরকার।
মঙ্গলবার নিজের ভাষণে এর্দোগান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীর ইস্যু সহ সকল সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলির কাঠামো অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে করা জরুরি।’ নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন ভাষণের সময়। বিগত কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্বমঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিতভাবেই কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করে আসছেন এর্দোগান, যা নিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শুধু কাশ্মীর নয়, এর পাশাপাশি গাজায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ বাড়ানো, প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বড় ধরনের সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। গাজার মানবিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কাশ্মীর নিয়ে এর্দোগানের এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয়। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকেই এই বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে তিনি দাবি করেছিলেন যে, কাশ্মীরের কোটি কোটি মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। সেই সময় তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল নয়াদিল্লি। প্রতিবাদস্বরূপ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত তুরস্ক সফর বাতিল হওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও ভাটা পড়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের অধিবেশনেও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে এর্দোগান একে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। সেবারেও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, তুরস্কের এই ধরনের বক্তব্য কেবল ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপন্থী নয়, বরং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। মাঝখানে কিছুদিন এই ইস্যুতে কিছুটা বিরতি দেখা গেলেও, ২০২৫ সালের ৮০তম অধিবেশনে ভারত-পাকিস্তান সাময়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ফের রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবের ভিত্তিতে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের কথা বলেন তিনি। যদিও প্রতিবারই ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনও দেশের হস্তক্ষেপের কোনও অধিকার নেই।

