উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের আতশকাচের নীচে থাকা বীরভূমের (Birbhum) বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে তদন্তে বড়সড়ো অগ্রগতি। তাঁর তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টুলুর শ্বশুরবাড়িতে হানা দিল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ) (Tulu Mondal STF Raid)। বুধবার সকাল থেকেই টুলুর শ্যালক মিন্টু শেখ ওরফে মহম্মদ সামসুল আলমের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যান এসটিএফের সদস্যরা।।
এদিন শুধু মিন্টুর বাড়িই নয়, টুলুর আরেক শ্যালক নুরুল ইসলামের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে এসটিএফ যখন মিন্টুর বাড়িতে পৌঁছায়, তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাড়ি জুড়ে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তল্লাশির পর নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এসটিএফের (STF) হাতে আপত্তিকর বা অবৈধ কিছু পায়নি। তিনি জানান, ‘‘আমাদের বাড়িতে তো কিছুই নেই, পাবে কোথা থেকে।’’ তবে এই আকস্মিক হানাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তকারীদের দাবি, সরকারের চোখে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন টুলু মণ্ডল। সাধারণ মানুষের সেই টাকা কোথায় কোথায় আত্মসাৎ বা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতেই এখন তাঁর ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়দের ওপর নজর রেখেছেন গোয়েন্দারা। এর আগে সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর নিজস্ব বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। টুলু মণ্ডল বর্তমানে অধরা থাকলেও তাঁর নেটওয়ার্কের মূল উৎস খুঁজতে মরিয়া পুলিশ।
বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, টুলু মণ্ডলের প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর আত্মীয় মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকার সোনা ও নগদও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পলাতক টুলু মণ্ডলের খোঁজ পেতে এবং তাঁর গোপন আর্থিক সাম্রাজ্যের সন্ধান করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

