কোচবিহার: দুর্গাপূজার আবহ ও উৎসবের আনন্দের মধ্যেই নেমে এল চরম ট্র্যাজেডি। শোবার ঘরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল মাত্র দু’বছর বয়সী এক শিশুকন্যার। শনিবার দুপুরে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জ (Tufanganj)-২ ব্লকের ভানুকুমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চর ভানুকুমারী গ্রামে। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে পরিবারটির বসতবাড়ি। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম মারুফা খাতুন (২)। এদিন দুপুরে চর ভানুকুমারী গ্রামের বাসিন্দা মামুদ আলীর বাড়িতে আচমকাই আগুন লেগে যায়। ঘর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে চিৎকার শুরু করেন প্রতিবেশীরা। তারা সঙ্গে সঙ্গে বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন শিশুর বাবা মামুদ আলী ও মা হামিদা বিবি। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ভেতরে আটকে থাকা তাঁদের দু’বছরের শিশুকন্যা অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভেতরেই প্রাণ হারায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বক্সিরহাট থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। দমকলের দুটি ইঞ্জিনের প্রায় দু’ঘণ্টার টানা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে গোটা বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে ঘর থেকে শিশুটির পুড়ে যাওয়া দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তুফানগঞ্জ দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িটি প্রায় ফাঁকা ছিল। আগুন নেভানোর পর ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেছে, যা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আপাতত দুর্ঘটনাস্থল ও পোড়া বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদ্ঘাটনে রবিবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। দুর্গাপূজার মাঝে এই অবোধ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে (Tragedy) স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো চর ভানুকুমারী গ্রাম।

