উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ইতি টেনে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসি (Subrata Bakshi) চিঠি লিখে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর এই পদত্যাগের (Resignation) সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কাকলি। সেই ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পর দল দ্রুত তাপস চট্টোপাধ্যায়কে ওই দায়িত্ব দেয়। সূত্রের খবর, এই দ্রুত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াতেই সাংসদের অসন্তোষ আরও বাড়ে। এর মধ্যেই দলের অলিখিত নিষেধ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন তিনি। সেই বৈঠকের পরেই এদিন সমস্ত দলীয় পদ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন বারাসতের সাংসদ।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদে নিযুক্ত করা হলেও, ভোটের ফলাফলের পর সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের অন্দরে মনোমালিন্য শুরু হয়।
পদত্যাগের নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা সামনে আসছে। গত রবিবার জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সময় কাকলি দাবি করেছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এলাকায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিয়েই তিনি সরছেন। পাশাপাশি, তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর কাজের ধরণ এবং ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, দলের অন্দরে এই সংস্থার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ সংগঠনকে দুর্বল করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু নৈতিক দায় নয়, বরং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের কারণেই এই বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনবারের এই সাংসদ। এখন দেখার, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর এই দূরত্বের জেরে আগামী দিনে বারাসতের রাজনীতির সমীকরণ কীভাবে বদলায়।
