উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প-জেলেনস্কি (Trump-Zelenskyy) বৈঠক ফের সরগরম হয়ে উঠল। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। জানা গেছে, বৈঠকে ডনবাস এলাকার একটা অংশ রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন পুতিন। যেই প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেন জেলেনস্কি। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ার করেন, ‘পুতিন চাইলে ইউক্রেনকে শেষ করে দিতে পারে।’ যদিও এর আগে একটি বৈঠকে ওভাল অফিস থেকে জেলেনস্কিকে রীতিমতো অপমানিত হয়ে বের হতে হয়েছিল, কিন্তু এবার তেমন হয়নি। বৈঠক শেষ হওয়ার পরই জেলেনস্কি ওভাল অফিস ছাড়েন।
রবিবার এয়ার ফোর্স ১ বিমানে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি বলেন, ‘আমি যা বলতে চাই তা হল এখনই লড়াই বন্ধ হোক। মানুষ মারা বন্ধ করো।’ এরপরই ডনবাস অঞ্চলটিকে ভাগাভাগি করে নেওয়ারও প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অঞ্চলটি এখন যেমন আছে, তেমন ভাবেই ভাগ করে দেওয়া হোক। এখন তো ভাগ হয়েই রয়েছে। যেমন আছে, তেমন ভাবেই ছেড়ে দিক ওরা।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘পরে ওরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে যে যেখানে আছে যুদ্ধ থামাতে হবে, ঘরে ফিরতে হবে, মানুষ মারা বন্ধ করতে হবে।’ যদিও সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে এদিনের অবস্থান ছিল অনেকটাই আলাদা। যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেন তাদের দেশের অংশ ফিরিয়ে নিতে পারে, এমনকি তারা রাশিয়ার জমিতেও ঢুকে যেতে পারে। এমনকি রাশিয়াকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, বহু আলোচিত আলাস্কা বৈঠক থেকে কোনও সমাধানসূত্র না বের হওয়ায় ট্রাম্পের হতাশাকে কাজে লাগিয়ে জেলেনস্কি আমেরিকার কাছ থেকে লং রেঞ্জ টোমাহক মিসাইল আদায় করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। আপাতত ইউক্রেনকে টোমাহক মিসাইল দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এই মিসাইল হাতে পেলে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারত ইউক্রেন। যা রাশিয়ার জন্য যথেষ্টই উদ্বেগের হত। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়াতে বলেন, ‘আলোচনা আকর্ষণীয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে, আমি তাকে বলেছি এটা হত্যা বন্ধ করে সমঝোতা করার সময়।’
সূত্রের খবর, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের আগে টেলিফোনে আলোচনা সারেন পুতিন। সেখানেই তিনি প্রস্তাব দেন ইউক্রেন যাতে ডনবাস অঞ্চলের বাকি অংশ রাশিয়াকে দিয়ে দেয়। বিনিময়ে খেরসন এবং জাপোরিঝিয়ায় সীমিত ছাড় দেওয়া হবে ইউক্রেনকে। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাব মানতে রাজি নন। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন ‘সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে আমরা কোনও আপস করতে রাজি নই, আমাদের সহযোগিদেরও এই অবস্থানের উপর পূর্ণ আস্থা আছে।’
