উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ত্রিপুরার ডিজিপির রহস্যমৃত্যু (Tripura DGP Loss of life)। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর দপ্তর (Agartala police headquarters) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ত্রিপুরার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকরের দেহ। প্রাথমিকভাবে অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে এখনও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, এদিন সদর দপ্তরে নিজের চেম্বারের শৌচাগার থেকে অনুরাগের দেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের খবর, দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন কর্মীরা। সেখানে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তড়িঘড়ি সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্থ (জিবি) হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, ডিজিপিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর শরীরে প্রাণের কোনও লক্ষণ ছিল না। ফলে চিকিৎসার কোনও সুযোগ মেলেনি।
এই মর্মান্তিক খবর পেয়েই পুলিশ সদর দপ্তরে ছুটে যান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেনসিক দল। তারা নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে অনুমান করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও মন্তব্য করতে নারাজ প্রশাসন। ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত, পেশাগত ও প্রশাসনিক সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। তবে তাঁর এক সহকর্মী জানান, পারিবারিক স্তরে তাঁর কোনও সমস্যা ছিল না। স্ত্রী আগরতলাতেই তাঁর সঙ্গে থাকতেন এবং একমাত্র সন্তান কানাডায় কর্মরত।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার অত্যন্ত সৎ, গতিশীল ও নিষ্ঠাবান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে অমিতাভ রঞ্জনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ত্রিপুরার পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অনুরাগ ধনকর। তার আগে তিনি রাজ্যে ডিরেক্টর জেনারেল (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-তে কাজ করার সময় বহু হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ এই পুলিশ আধিকারিকের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও পরিচিতরা।

