উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার পালিতপুর গ্রামে এক আদিবাসী গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকা উত্তাল। ওই বধূকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে (Tribal Housewife Loss of life)। বৃহস্পতিবার মৃতার বাড়িতে পৌঁছান রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার দুপুরে গৃহবধূ তাঁর স্বামী এবং এলাকার এক যুবকের সঙ্গে বাড়ির পাশের মাঠে বসে মদ্যপান করেছিলেন। বিকেলে বিশ্রাম নেওয়ার পর গৃহবধূ স্বামীকে খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরে ক্যানেল পাড়ের জমিতে ওই বধূর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই পালিতপুর গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মৃতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকার এক যুবক নিখোঁজ থাকায় তার দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছে পরিবার। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ শেখ আজিজুল এবং ভদাই শেখ নামে দেওয়ানদিঘির দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মৃতার পরিবার মন্ত্রীর কাছে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার যেকোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং নিগৃহীত পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। এই ঘটনায় পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তা প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

