বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে ভারতে আসা এক কিশোরকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ। আর এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। গত বছর অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হলে, চোদ্দো বছরের নাবালক কল্প চক্রবর্তীকে নিরাপদে রাখার জন্য তার বাবা পূর্ণ চক্রবর্তী চোরাপথে ভারতে পাঠিয়ে দেন গত সেপ্টেম্বরে। তারপর থেকে ওই নাবালক দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) সমজিয়ার নবগ্রাম বড়বাসা গ্রামে মাসির বাড়িতে থাকছিল প্রায় দশ মাস।
অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে সূত্র মারফত খবর পেয়ে কিশোরকে আটক করে বিএসএফ। জিজ্ঞাসাবাদের পর সে নিজেই স্বীকার করে বাংলাদেশ থেকে আসার কথা। এরপর বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে কল্পকে ফেরত পাঠানো হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরের বাবা পূর্ণ চক্রবর্তীও।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। সিপিএম নেতা মোফাজ্জল হোসেন সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিজেপি বলেছিল অত্যাচারিত হিন্দুরা বাংলাদেশ থেকে এলে তাদের সিএএ আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাহলে কল্প চক্রবর্তীকে কেন ফেরত পাঠানো হল? সিএএ কি তবে ভোটের রাজনীতির হাতিয়ার ছাড়া আর কিছু নয়?’
তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুদ্দিন মিয়াঁ এক সুরে অভিযোগ তোলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, সিএএ শুধুই ভাঁওতা। আইন সবার জন্য সমান। কল্প চক্রবর্তী নামের হিন্দু ব্রাহ্মণ ছেলেটিকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাই তার প্রমাণ।’
অন্যদিকে, বিজেপি জেলা নেতৃত্ব এই ঘটনা নিয়ে তদন্তে নামার আশ্বাস দিয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সহ সভানেত্রী দেবশ্রী সরকার বলেন, ‘এমন কেন হল, খতিয়ে দেখতে হবে। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’
বিজেপি শিবির অবশ্য দাবি করেছে, সিএএ আইন কার্যকর করার লক্ষ্য হল, বাংলাদেশ সহ প্রতিবেশী দেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান ও পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া।
স্থানীয় মানুষ ওই কিশোরকে ফেরত পাঠানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। নাবালকের মাসতুতো দাদা ধনঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ভাইকে ওরা পাঠিয়ে দিয়েছে।’ আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো প্রশাসনের স্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে। তেমনই বিরোধীরা এটিকে কেন্দ্র করে সিএএ বাস্তবায়নের ব্যর্থতা তুলে ধরে রাজনৈতিক অস্ত্রে শান দিচ্ছেন।
