নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: পুজোর ছুটিতে পাহাড়ের টানও কম নয়। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি দেখতে অনেকেই বেছে নেন দার্জিলিং ও কার্সিয়াংয়ের পথ। এবার তাঁদের ভরসা ছিল ঐতিহ্যবাহী খেলনা ট্রেন (Toy Prepare)। ২১ দিনে প্রায় বারো হাজার পর্যটকের সফরে খুশি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) (DHR)। প্রকৃতির কাছাকাছি পৌঁছানোর আনন্দও সেখানে মেলে।
পুজোর মরশুমে ডিএইচআর প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা আয় করেছে। কর্তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত টয়ট্রেনে সফর করেছেন প্রায় ১২ হাজার পর্যটক। নির্দিষ্ট হিসাবে আয়ের অঙ্ক ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা। পর্যটকদের আনাগোনা নজর কাড়ায় খুশি রেলকর্তারা। উৎসবের মরশুমে এই পরিষেবা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
পুজোর ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই মাসের ১ তারিখ থেকে ছয়টি নতুন জয়রাইড চালু করেছিল ডিএইচআর। তার মধ্যে দার্জিলিংয়ে চারটি পৃথক সিঙ্গল ট্রিপ জয়রাইড ছিল উল্লেখযোগ্য। দার্জিলিং থেকে ঘুম এবং ঘুম থেকে দার্জিলিং (Darjeeling), দু’দিকেই এই পরিষেবা চালু হয়। প্রতিটি জয়রাইড চলে ডিজেল ইঞ্জিনে।
ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, ‘পুজোর মরশুমে পর্যটকদের জন্য একাধিক নতুন জয়রাইড চালু করা হয়েছিল। তাতে খুব ভালো সাড়া মিলেছে। আয়ের অঙ্কও যথেষ্টই ভালো।’
অন্যদিকে, কার্সিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত ‘রেড পান্ডা’ ও ‘মুক্তধারা’ নামে আরও দুটি জয়রাইড চালু হয়। রাউন্ড ট্রিপ ‘রেড পান্ডা’য় ব্যবহার করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। ‘মুক্তধারা’ চলে ডিজেল ইঞ্জিনে। টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যে রাখতেই মুক্তধারার পাশাপাশি আরও কয়েকটি জয়রাইডে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
ডিএইচআর সূত্রে খবর, ১ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে প্রতিটি জয়রাইডেই ভালো সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে দার্জিলিং-ঘুম রুটের সিঙ্গল ট্রিপ জয়রাইড পর্যটকদের নজর কেড়েছে। পুজোর মরশুমে ‘মুক্তধারা’ ও ‘রেড পান্ডা’ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহেই এই আয়ের সাফল্য দেখছেন কর্তারা।

