উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির (R.N. Ravi) সঙ্গে দেখা করতে রাজভবনে হাজির হলেন টলিউডের একঝাঁক তারকা (Tollywood celebs meet governor)। গৌতম ঘোষ, পাওলি দাম, ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার থেকে শুরু করে শিল্পজগতের আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হয়েছিলেন সেখানে। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং উদ্যোগপতিদের এই মিলনমেলা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না, ফলে হঠাৎ কেন এই সাক্ষাৎ? কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা বিশেষ প্রস্তাবের জন্যই কি এই তলব? তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
‘প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে মূলত একটি ঘরোয়া এবং সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত বিশিষ্টদের দাবি, সাক্ষাৎটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ছিল। শিল্পী তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কোনো প্রস্তাবের বিষয় ছিল না। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা এসেছিলেন। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শিল্পজগতের সঙ্গে যুক্ত সকলের সঙ্গে নিছক আলাপ করলেন রাজ্যপাল।”
এদিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী। তাঁর কথায়, “এমন সাক্ষাতে মনটা ভালো হয়ে গিয়েছে। সচরাচর তো আলাপ-পরিচয়ের জন্য এমন সাক্ষাৎ হয় না, যেখানে একসঙ্গে সকলে উপস্থিত থাকে। খুবই ভালো একটা অনুভূতি।” এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও, তবে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং স্রেফ একজন শিল্পী হিসেবেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন।
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও এই আমন্ত্রণ পেয়ে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছেন। তিনি জানান, দারুণ একটা সকাল কেটেছে এবং আগামীদিনে প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যপাল। অভিনেত্রী পাওলি দামের মতে, সংস্কৃতির প্রতি রাজ্যপালের গভীর অনুরাগ রয়েছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যপালের বক্তব্য শুনে বুঝেছি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শিল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে। এটি একটি সম্পূর্ণ ঘরোয়া অনুষ্ঠান ছিল।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজভবনে এত বড় মাপের শিল্পীদের (Leisure Information) এই জমায়েত নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো বড় সমীকরণ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। শিল্পীরা রাজনৈতিক আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও, এই বৈঠক যে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

