উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধির (Soniya Gandhi) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বৈঠক এবং রাহুল গান্ধির (Rahul Gnadhi) সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দীর্ঘ আলোচনার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য সংযুক্তির জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। তবে বৃহস্পতিবার সেই জল্পনা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিল কংগ্রেস হাইকমান্ড।
দিল্লির ইন্দিরা ভবনে এদিন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল (Okay.C.Venugopal) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ধরণের রাজনৈতিক সংযুক্তির জল্পনা ভিত্তিহীন এবং ‘ভুয়ো’। জয়রাম রমেশ এই প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “বিভিন্ন মহলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সোনিয়া গান্ধি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ৪০ বছরের পুরনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও সৌজন্যমূলক অনেক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কংগ্রেস ও তৃণমূলের মিশে যাওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি ভুল।”
এদিনের বৈঠকে মূলত আগামী দিনের জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, নিট (NEET) পরীক্ষার বিতর্কিত কেলেঙ্কারি এবং অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। কেসি বেণুগোপাল নিশ্চিত করেছেন যে, কংগ্রেসের এদিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে কোনো আলোচ্যসূচিই ছিল না।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস হাইকমান্ড জানিয়েছে, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে দেশজুড়ে এক বড়সড় গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবক্ষয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশছোঁয়া দামের প্রতিবাদে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। খুব শীঘ্রই এই আন্দোলনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মিশে যাওয়ার জল্পনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে কংগ্রেস তার নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মসূচি ও বিরোধী আন্দোলনের ওপরই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে। তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই সাম্প্রতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ যে নিছক রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্তরে ছিল, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস তা স্পষ্ট করে দিল।
