রায়গঞ্জ: ঘরে ঢুকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক ৩৫ বছরের বিধবা মহিলাকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল এলাকারই এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে (TMC Chief Arrested Rape Allegation)। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পাশাপাশি মহিলার বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইটাহার থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তুললে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম মুস্তফা আলী। তাঁর বাড়ি ইটাহার থানার গুলন্দোর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাড়েরগ্রামে। গত ২৩ জুন রাতে ওই বিধবা মহিলা তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত মুস্তফা আলী টিনের দরজা ভেঙে ওই মহিলার ঘরে প্রবেশ করে। এর পর তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে এবং তার বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলে নিজের মোবাইল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনার পর নির্যাতিতা মহিলা সাহস সঞ্চয় করে ইটাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মুস্তফার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সে এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ও দুষ্কৃতীদের সঙ্গে চলাফেরা করায় এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় ভয়ে তত্রস্থ হয়ে থাকেন।
ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের ৩৩১(৪)/ ৬৪/ ৬২/ ৭৪/ ৭৫/ ৭৭/ ৭৯/ ৩৫১(২) সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী অতনু দাস জানান, ‘‘ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় পুলিশ মামলা রুজু করেছে। বিচারক তাঁর জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।’’

