উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ (TMC Becoming a member of) দিয়েই দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেললেন ময়নার দাপুটে নেতা চন্দন মণ্ডল (Chandan Mandal)। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই তিনি অভিযোগ করেন যে, ময়নায় কয়েক মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা বকেয়া রয়েছে। যোগদান মঞ্চে দাঁড়িয়েই নবাগত নেতার এমন সোজাসাপ্টা মন্তব্যে জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
তৃণমূলের পতাকা হাতে নেওয়ার পর চন্দন মণ্ডল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জনপ্রিয়তা স্বীকার করলেও বকেয়া টাকা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, “মায়েরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক খরচের টাকা পান। যাঁদের টাকা বন্ধ ছিল, তাঁরা খুব কষ্টের মধ্যে আছেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলাম, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। অনেকেই টাকা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও ৫-৬ মাসের টাকা বকেয়া আছে। আমি আবেদন করছি, যেন দ্রুত এই টাকা ছেড়ে দেওয়া হয়।”
চন্দনের মন্তব্যে উপস্থিত নেতৃত্ব কিছুটা থতমত খেলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি একে ‘টেকনিক্যাল’ বা বিভাগীয় ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, “কিছু টেকনিক্যাল কারণে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা বুথে বা কোনো স্লটে টাকা ঢুকতে দেরি হতে পারে। তা ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই।”
অন্যদিকে, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও দাবি করেন যে এর মধ্যে কোনো রাজনীতির বিষয় নেই। তবে তিনি কিছুটা পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই প্রকল্পে তৃণমূল বা বিজেপির মধ্যে ভাগাভাগি নেই। কিন্তু ওই এলাকার মহিলারা ঠিকমতো ফর্ম ফিলাপ করেছেন কি না বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়েছেন কি না, সেটা দেখা দরকার। বাংলার কোনো মেয়ে বলতে পারবে না যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কোথাও অসুবিধা হয়েছে।”
চন্দন মণ্ডলের এই বেফাঁস মন্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, ময়নার মতো এলাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বকেয়া থাকার বিষয়টি বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
