আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী। সে সব কথা গোপন রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে সহবাসের অভিযোগ উঠল তৃণমূল (TMC) নেতার বিরুদ্ধে। গর্ভবতী হয়ে এক সন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। বর্তমানে তৃণমূল নেতার কথার অবাধ্য হওয়ায় তরুণীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে পরিবার এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন তরুণী। বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাটের (Rampurhat) ঘটনা।
রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের কাউন্সিলার প্রিয়নাথ সাউ। সেই সঙ্গে সদ্য রামপুরহাট শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি পদ পেয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের ভোটার কার্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাউন্সিলারের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এরপর তাঁকে ভোটার কার্ড তৈরিতে সাহায্যের নামে একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় ডেকে পাঠানো হয়।
তরুণীর অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলার তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসময় জানিয়েছিলেন, তিনি অবিবাহিত। এইভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন ওই তরুণীর সঙ্গে সেই কাউন্সিলার সহবাস করে বলে অভিযোগ। বছর পাঁচেক পর বিয়ের প্রস্তাব দিলে অভিযুক্ত বিয়েতে অস্বীকার করে। তখন সে জানায়, তাঁর স্ত্রী ও পুত্র রয়েছে। এরপর ওই তরুণী অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তরুণীকে সহবাসে বাধ্য করে বলে জানা গিয়েছে। বাধ্য হয়ে তরুণীর পরিবার মেয়ের অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও ওই কাউন্সিলার তরুণীর পিছু ছাড়েনি বলে অভিযোগ। তরুণীর স্বামীকে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সে সহবাস চালিয়ে যেত বলে অভিযোগ। ২০২২ সালে ওই তরুণী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্ম হতেই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তাঁর স্বামী। বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। এখনও প্রভাব খাটিয়ে ওই কাউন্সিলার খুনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বুধবার রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী।
এদিকে রাজ্যের শাসকদলের কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ সামনে আসায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘তৃণমূল ধর্ষকদের সম্মান দেয়। সেই কারণেই ওই অভিযুক্তকে তৃণমূলের কলকাতার নেতারা রামপুরহাট শহর সহ সভাপতি নির্বাচিত করেছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি। সেই সঙ্গে অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’
সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব মল্লিক বলেন, ‘এখন তৃণমূল মানেই দুর্নীতিবাজ, তোলাবাজ আর চরিত্রহীন। আমরা দেখব বিষয়টি যেন পুলিশ ধামাচাপা দিতে না পারে। আমরা দলের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি গ্রহণ করব।’
বিষয়টি জানা নেই বলে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এবিষয়ে এখনও অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রামপুরহাট থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
