উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আচমকাই বন্ধ (Financial institution Accounts Are Frozen) হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস (Kalighat TMC)। দৈনন্দিন লেনদেন থমকে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে এই মুহূর্তে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। বিধানসভায় নতুন ব্লক তৈরির পর এই বিপুল অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের নেতারা টাকার ওপর দাবি জানাতে পারেন—এমন আশঙ্কায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস এই টাকা অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন। খবর পেয়ে ঋতব্রত শিবির পাল্টা চাপে ফেলে অরূপ বিশ্বাসকে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। দলীয় তহবিল সুরক্ষিত রাখতে বাধ্য হয়ে অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সমস্ত লেনদেন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার নেপথ্যে কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে (Arup Biswas) শো-কজ নোটিস পাঠায় দল। জবাবে অরূপ বিশ্বাস শুধুমাত্র নিজের অবস্থানই স্পষ্ট করেননি, বরং দলীয় অ্যাকাউন্টের লেনদেনে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বেশ কিছু চেকে সই করার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। সব মিলিয়ে এই আর্থিক ও আইনি জটিলতায় কালীঘাটের তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব এখন কার্যত চাপের মুখে।

