উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলায় এসে পরিবর্তনের ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূল (Tmc) সরকার না গেলে বাংলার উন্নতি নেই। এছাড়া, অভয়াকাণ্ড থেকে কসবা, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে বাঙালি অস্মিতার প্রসঙ্গ, মোদি নিজের ভাষণে ছুঁয়ে গিয়েছেন সবটাই। মোদির এহেন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের জবাব দিতে অবশ্য দেরি করেনি বাংলার শাসক তৃণমূল। সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা মোদিকে পালটা বিঁধেছেন ‘মিথ্যাচারী’ বলে। পাশাপাশি এদিন মোদির মুখে যেভাবে ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি শোনা গেছে তাকেও নিশানা করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, বলেন, ‘পরিবর্তনটা হয়েছে মোদীজির মধ্যে। ‘জয় শ্রীরাম’ থেকে হয়ে গেল ‘জয় মা কালী’! এত পরিবর্তন! ১১ বছরের প্রধানমন্ত্রীকে বদলে দিল বাংলা।’ রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ এক বারও ‘জয় শ্রী রাম’ বলেননি! আর এটাও মনে রাখা দরকার, দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ আমরা মোদীজির পরিবর্তন লক্ষ করলাম।’
মোদির যাবতীয় আক্রমণও সুদে আসলে ফিরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। কুণাল বলেন, ‘তৃণমূলে থাকার সময়ে যাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগ তুলত, আজ তাঁরাই প্রধানমন্ত্রীর পাশে। যাঁরা নিজের দলের প্রতি বিশ্বস্ত নয়, তাঁরা জনগণের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে কী ভাবে? যাঁরা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁরাই এখন বিজেপির মুখ। আর সেই লোকজনের হাত ধরেই নাকি আপনি ‘পরিবর্তন’ আনবেন?’ প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আরজি কর, কসবার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বাংলায় মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তৃণমূল তার জববাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ টেনেছে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘মহিলাদের প্রতি সহানুভূতির কথা বলছেন? তা হলে ওড়িশার সেই মেয়েটির কথা বললেন না কেন, যিনি আগুনে পুড়ে মারা গেলেন? কলকাতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ধরা পড়ে, কিন্তু ওড়িশায় এখনও কিছুই হয়নি! যদি ওড়িশা এত উন্নত হয়, তবে কেন এখনও কেউ ধরা পড়েনি?’
সমাজমাধ্যমেও মোদির বক্তব্যের, বিরোধীতায় সরব হয়েছে তৃণমূল। মোদি যেভাবে রাজ্যে গরিব মানুষ আবাসের ঘর না পাওয়ায় সরব হয়েছে সেখানে তৃণমূল জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বছরের পর বছর বাংলা আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে। অন্যদিকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের অপেক্ষা না করে, রাজ্যের কোষাগার থেকেই ১৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে, ১২ লক্ষ পরিবারের মাথার ছাদ সুনিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয় আরও ১৬ লক্ষ পরিবার শীঘ্রই তাদের ঘর পাবে। মোদি যেখানে বাংলা ও বাঙালিকে সম্মান করার কথা বলেছেন, সেখানে তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘ভোট এলেই বাংলা-ভক্তি তাই না? এই ভণ্ড ভালোবাসা বাংলার দরকার নেই!’
