সেনাউল হক, মোথাবাড়ি: হামলা এবং খুনের আশঙ্কায় গ্রাম পঞ্চায়েতে পা রাখছেন না প্রধান। নিজেকে বন্দি করে রেখেছেন বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে। তাঁর আশঙ্কার কেন্দ্রে বিরোধীরা নন, দলেরই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যারা এবং তাঁদের স্বামীরা। বৃহস্পতিবার রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড মিটিং চলাকালীন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় (TMC)। তারই প্রেক্ষিতে গ্রাম পঞ্চায়েতে পা রাখছেন না প্রধান শামসুন্নাহার। মঙ্গলবার তিনি বলছেন, ‘আমার ওপর হামলা হতে পারে। আমাকে প্রাণে মারা হতে পারে। এই ভয়ে আমি অফিস যেতে পারছি না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে নাটকের অভিযোগ তুলেছে দলেরই বিরোধী গোষ্ঠী। এদিকে, পঞ্চায়েত অফিসে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। কেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পদক্ষেপ করছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যথারীতি সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে শিকেয় উঠেছে রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম। গত বৃহস্পতিবার উপপ্রধান সবিতা সাহা চৌধুরীর ডাকা বোর্ড মিটিং চলাকালীন নানান ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। রক্ত ঝরে। প্রধানের স্বামী নাসিম আহমেদ, বিরোধী পক্ষের ফেকু মোমিন ও নাসির আহমেদকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে হয় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। দুই পক্ষই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। ওই ঘটনার পর থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েতে যাচ্ছেন না প্রধান শামসুন্নাহার। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমার উপর হামলা চালাতে পারে বিরোধীরা। এমনকি আমাকে প্রাণেও মেরে ফেলতে পারে। তাই আমি ভয়ে পঞ্চায়েত অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সিকিউরিটি ফোর্স ছাড়া অফিসে যাব না।’ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন ফেকু, নাসিররা। যা নস্যাৎ করে দিয়ে শামসুন্নাহারের দাবি, ‘আমার স্বামী মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পাশের ঘরে ছিলেন। বিরোধীরা মিটিংয়ে গণ্ডগোল করে আমার স্বামীর ঘরে গিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এখনও তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বামীকে মারধর করার পর ওরা একটি আম বাগানে লুকিয়ে থাকে। চোর সন্দেহে গ্রামবাসী ওদের মারধর করে।’ তিনি প্রচণ্ড ভয়ে রয়েছেন বলে জানান প্রধান। অন্যদিকে ফেকু বলছেন, ‘আমরা কোথায় মারধর করলাম। আমাদেরই তো প্রধানের স্বামী এবং তাঁর দলবল মেরেছে। প্রধান এখন নাটক করছেন।’ উল্লেখ্য, প্রধানের স্বামী নাসিম ও তাঁর বাবা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাসিমুদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার বাবলা স্ট্যান্ডে পথ অবরোধ করেন ফেকুদের লোকজন।
এদিকে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ায় সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা অর্জুন হালদার বলেন, ‘রাজ্যে তৃণমূলের অরাজকতা চলছে। ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে গণ্ডগোল বাধছে। প্রধানই বলছেন তাঁকে নাকি প্রাণে মেরে দেওয়া হবে। সব নাটক শুরু হয়েছে।’ একই অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা তারক ঘোষ বলেন, ‘ব্লক সভাপতির ছেলে নাসিম। তাই তাঁর দাপট চলছে ওই এলাকায়। গোটা পঞ্চায়েতে লুট চালানো হচ্ছে।’
