উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা (TET) প্রশ্নফাঁস মামলায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। শনিবার সকালে বিহার থেকে এই কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত বীরেন্দ্রকুমার গুপ্তকে (Virender Kumar Gupta) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আকাশপথে পুনেতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিওয়ান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত ২৬ জুনের নির্ধারিত টেট পরীক্ষার ঠিক আগের দিন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা মহারাষ্ট্র এবং স্থগিত হয়ে যায় পরীক্ষা। তদন্তকারীদের দাবি, এই প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম মাথা ছিলেন বীরেন্দ্র। এর আগে বিহার থেকেই তাঁর স্ত্রী সুমন গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, তিনিও এই র্যাকেটের অন্যতম চক্রী ছিলেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে বিহার ও পাঞ্জাব থেকে কপিল দাহিয়া, মিথুন সিং এবং সোনু সিং নামে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, ছাপানো এবং বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজে তাঁদের ভূমিকা ছিল। সোনু এবং বীরেন্দ্রর মধ্যেও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে দাবি পুলিশের।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্র ছাপানোর দায়িত্বে থাকা আগ্রার যে সংস্থার সঙ্গে মহারাষ্ট্র স্টেট কাউন্সিল অফ এক্সামিনেশন (MSCE)-এর চুক্তি ছিল, সেখানকার কর্মীরাও এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যেই সংস্থার তিন কর্মী— নরেশ পুরানচন্দ মাহোরে, সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র শর্মা এবং বাবুলাল নারায়ণসিংহ কুশাওহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রশ্নফাঁসের সূত্রপাত হয়েছে ওই আগ্রার ছাপাখানা থেকেই।
তবে এই প্রশ্নফাঁস চক্রের জাল শুধু মহারাষ্ট্র নয়, একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি টাকার লেনদেন এবং প্রশ্নপত্র কীভাবে হাতবদল হয়েছে, তাও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নতুন করে কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা মহারাষ্ট্র স্টেট কাউন্সিল অফ এগজ়ামিনেশনের ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

