উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি(RJD)-র শোচনীয় পরাজয়ের পরেই লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারে শুরু হয়েছে এক চরম পারিবারিক সংঘাত, যা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের বিপর্যয়ের জন্য পরিবার কর্তৃক দায়ী হওয়ার অভিযোগ তুলে লালু-কন্যা রোহিণী আচার্য শুধু রাজনীতিই ছাড়েননি, পরিবার থেকেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জ্যেষ্ঠ পুত্র তেজ প্রতাপ যাদব তাঁর বোন রোহিণীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এই ঘটনার জন্য ভাই তেজস্বী যাদবের ঘনিষ্ঠ মহলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
পেশায় চিকিৎসক রোহিণী আচার্য গতকাল (শনিবার) হঠাৎই পরিবার ও রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি তাঁর ভাই তেজস্বী যাদবের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী— আরজেডি নেতা সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ খান-এর বিরুদ্ধে পরিবারে ফাটল ধরানোর অভিযোগ এনেছেন।
আজ সকালে (রবিবার) এক আবেগপূর্ণ অনলাইন পোস্টে রোহিণী আচার্য আরও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, দলের নির্বাচনী পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁকে “নোংরা গালিগালাজ” করা হয়েছে এবং “মারার জন্য জুতো তোলা হয়েছে”। রোহিণী লিখেছেন, “আমি আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করিনি, সত্যের কাছে মাথা নত করিনি। শুধুমাত্র এই কারণে আমাকে এই অপমান সহ্য করতে হয়েছে।” তাঁর দাবি, তিনি বাধ্য হয়ে ক্রন্দনরত বাবা-মা ও বোনদের ছেড়ে বাপের বাড়ি ত্যাগ করেছেন এবং তাঁকে ‘অনাথ’ করে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে লালুপ্রসাদকে কিডনি দান করা নিয়ে। ২০২২ সালে অসুস্থ বাবাকে নিজের কিডনি দান করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন রোহিণী। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কটাক্ষ করে বলেছেন যে, তিনি নাকি “কোটি কোটি টাকা নিয়ে” নির্বাচনী টিকিট কেনার বিনিময়ে তাঁর বাবাকে “নোংরা কিডনি” দান করেছেন। এই অভিযোগ লালুর পরিবারে চলতি সংঘাতের মাত্রা আরও তীব্র করেছে।
এদিকে, বিতর্কিত আচরণের জন্য পরিবার ও দল থেকে বহিষ্কৃত লালু-পুত্র তেজ প্রতাপ যাদব তাঁর বোনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি রোহিণীর প্রতি হওয়া এই অপমানকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তেজ প্রতাপ অনলাইন পোস্টে গর্জে উঠেছেন, “আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা আমি সহ্য করেছি। কিন্তু আমার বোন রোহিণীর প্রতি যে অপমান করা হয়েছে, তা কোনও পরিস্থিতিতেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ খানের প্রতি ইঙ্গিত করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “এই কয়েকটি মুখ তেজস্বীর বুদ্ধিকেও মেঘাচ্ছন্ন করে দিয়েছে।”
তেজ প্রতাপ এই সংঘাতের পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরজেডি-র জাতীয় সভাপতি তথা তাঁর বাবা লালু প্রসাদ যাদবের কাছে সোজাসুজি অনুমতি চেয়েছেন। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, “বাবা, আমাকে শুধু একটা ইশারা করুন… শুধু একটি সম্মতি, আর বিহারের মানুষজন নিজেরাই এই ‘জয়চাঁদদের’ কবর দেবে। এই লড়াই কোনও দলের নয়— এটি একটি পরিবারের সম্মান, একটি কন্যার মর্যাদা এবং বিহারের আত্মসম্মানের লড়াই।”
এই পারিবারিক সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আরজেডি বিহার নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নির্বাচনে দলের আসন সংখ্যা বিপুলভাবে কমে যাওয়ায় তেজস্বী যাদবের নেতৃত্ব এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোহিণীর অভিযোগগুলি সরাসরি তেজস্বীর বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা সঞ্জয় যাদব ও রমিজ় খানের দিকেই আঙুল তুলেছে, যা বিহারের রাজনীতিতে যাদব পরিবারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
