পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: মমতার সুরেই উত্তরের বিজেপি নেতারা চাইছেন না- উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে তিস্তার জল বাংলাদেশকে দেওয়া হোক। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তিস্তা জলচুক্তি (Teesta treaty) নিয়ে মুখ খুলেছেন সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাও। তাঁদেরও বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের স্বার্থ বজায় রেখেই তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা হোক।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা জলবণ্টন নিয়ে অ্যাড হক চুক্তি প্রথম হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। কিন্তু সেই চুক্তিতে বাংলাদেশকে ৩৯ শতাংশ জল দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও চুক্তি স্থায়ী ছিল না বলে রূপায়িত হয়নি। এদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ২০১১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা জলবণ্টনের খসড়া চুক্তি করেছিলেন। যেখানে ভারতে ৪২.২৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৩৭.৫০ শতাংশ তিস্তার জল ব্যবহারের উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে সেচের সমস্যার অজুহাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় তিস্তার জল বাংলাদেশকে দিতে পারেনি মোদি সরকার।
এবার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই তিস্তা জলবণ্টনের বিষয়টি নিয়ে ফের নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়াররাও ভাবছেন, ডাবল ইঞ্জিনের সরকার থাকায় এবার তিস্তা নিয়ে কিছু একটা হতে যাচ্ছে। সেচ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, ‘আশাকরি রাজ্যে নতুন যে সরকার শপথ নিতে চলেছে, তারা উত্তরবঙ্গের স্বার্থ বজায় রেখেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’ জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়ের বক্তব্য, তিস্তার জলবণ্টন ইস্যু নিয়ে দল ও রাজ্য সরকারের অবস্থান শীঘ্রই স্পষ্ট করা হবে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের মন্তব্য, ‘তিস্তার প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র একসঙ্গেই কাজ করবে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের স্বার্থ বিঘ্নিত করে কোনও জলবণ্টন চুক্তির রূপায়ণ উচিত হবে না বলেই মনে করি।’
এদিকে, বাংলাদেশ তাদের চাষাবাদের জন্য শুখা মরশুম ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত তিস্তার জল নেওয়ার জন্য খসড়া চুক্তি করেছিল। কিন্তু তিস্তা ব্যারেজে শুখা মরশুমে উত্তরবঙ্গের কৃষিজমিতে জল দিতেই শেষ হয়ে যায়। অন্য দেশকে কীভাবে দেওয়া যাবে বলে বিজেপিতেই প্রশ্ন উঠছে। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, ‘বাংলাকে বঞ্চিত করে কোনও কিছুই করতে দেওয়া যাবে না। এটা দলের মতামত। আমরা আমাদের রাজ্য সরকারের কাছেও সেই দাবি তুলে ধরব।’
