উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বহুচর্চিত তিস্তা মহাসেচ প্রকল্প (Teesta Challenge) বাস্তবায়নে এবার চিনের সরাসরি সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ (Bangladesh-China Relations)। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বেজিং সফর এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। বেজিংয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে সরকারিভাবে তিস্তা প্রকল্পের প্রস্তাব দেয় ঢাকা। এর ফলে তিস্তা ইস্যুতে ভারতের প্রভাব কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের পরিকল্পিত এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। ২০১৬ সালে এর প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও ২০২৩ সালে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ১০২ কিমি নদী খনন করে গভীরতা বাড়ানো এবং নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ করা। আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে এই প্রকল্পের ভার ভারতকে দেওয়ার পথে হাঁটলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা এখন বেজিংয়ের দিকেই ঝুঁকল।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খলিলুর রহমান ও ওয়াং ই-র বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, চিনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পেলে তিস্তা অববাহিকার কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
ভারত ও বাংলাদেশের (India-Bangladesh) মধ্যে বহমান ৫৬টি নদীর মধ্যে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার আমলে দিল্লিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর এত কাছে চিনের উপস্থিতি দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি বছরের পর বছর ঝুলে থাকার সুযোগই কি তবে চিনকে এই বড় সুযোগ করে দিল? উত্তর খুঁজছে কূটনৈতিক মহল।
