আসন্ন পুরভোটে কলকাতা ও হাওড়ার প্রায় সোয়া দু’লাখ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এসআইআরের জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এঁরা সবাই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আবেদনকারীরা কেউ এখনও জোকার ট্রাইব্যুনাল কোর্টে ডাক পাননি। স্বভাবতই নাম নেই ভোটার তালিকায়। তাই আগামী নভেম্বরের শেষে প্রস্তাবিত পুরভোটেও কলকাতা ও হাওড়ার ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৮৭ জন আবেদনকারীর ভোটদানের ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারে। একইভাবে রাজ্যের অন্য যে ১১টি পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা সেখানকার আরও লক্ষাধিক এমন আবেদনকারীর ভোটাধিকার বিশ বাও জলে। যদিও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দাবি, বিগত ছয় মাসে এই দুই পুরসভা এলাকার ৫৪৮৫ জন ভোটারের আবেদন যাচাই করে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে জোকার ৯টি ট্রাইব্যুনাল কোর্ট। শতাংশের বিচারে এই নিষ্পত্তির হার মাত্র ২.৬৮। বর্তমানে রাজ্যের একমাত্র জোকাতেই এই আদালত চলছে। উল্লেখ্যে, সুপ্রিম কোর্টে সোমবারই নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট দিয়েছে, যদি কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি না করা যায় তবে আরও ১২ বছর লাগবে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে।
নভেম্বরের শেষে পুরভোটের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার পুনর্বিন্যাস শেষে কলকাতায় ২০৯টি ও হাওড়ায় ৬৮টি ওয়ার্ড এবং মহিলা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু এই দুই পুরসভা এলাকায় এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সোয়া দু’কোটি ভোটার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ দেখাতে পারছেন না। তাঁরা কেউই এখনও জানেন না, বিধানসভা ভোটের মতো আসন্ন পুরসভা নির্বাচনেও নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার আদৌ প্রয়োগ করতে পারবেন কি না। কারণ, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভবানীপুর, বন্দর, রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ–এই চার বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও আবেদনকারীরই ডাক পড়েনি রাজ্য সরকারের ট্রাইব্যুনাল কোর্টে। তাই এই চার বিধানসভা কেন্দ্রের যাঁরা নাম তোলার আশা নিয়ে আইনজীবীদের সাহায্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা করেছিলেন তাঁদের কতজন আগামী দিনে ভোট দিতে পারবেন তা পুরোপুরি ধোঁয়াশায় রয়েছে। স্বভাবতই এই সোয়া দু’লাখ ভোটারের পুরভোটের আগে অধিকার ফিরিয়ে দিতে হাই কোর্টের কাছে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামপন্থী দলগুলির পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এদিন অভিযোগ করেন,‘‘পরিকল্পিত চক্রান্ত করে এসআইআরে নাম বাদ পড়াদের পুরভোটের আগে ভোটাধিকার ফেরাতে ট্রাইব্যুনাল কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে না রাজ্য সরকার। কারণ, এই ভোটাররা যে হারে হেনস্তা হচ্ছেন তার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবে বুঝেই চুপ আছে রাজ্য সরকার।’’ অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ও একই সুরে অভিযোগ করেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও ট্রাইব্যুনাল কোর্ট চালু করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। আর রাজ্য ইচ্ছা করেই এই কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে না। কারণ, ট্রাইব্যুনাল কোর্ট বাড়লে আবেদনকারীরা ভোটাধিকার ফিরে পাবেন। আর তাঁরা সবাই বিজেপির বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন।’’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
