উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে এবার কুড়মালি ভাষা ও কুড়মি আবেগ নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধল (Kurmali language oath)। বিধানসভা সচিবালয়ে কুড়মালি ভাষার কোনো অনুবাদক (Translator) না থাকায় জঙ্গলমহলের ৫ বিজেপি বিধায়কের শপথ গ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিধায়কদের দাবি, তাঁরা তাঁদের মাতৃভাষাতেই শপথ নিতে চান, কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে তাঁদের অন্য ভাষা বেছে নিতে বলা হচ্ছে।
পুরুলিয়ার জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো, বলরামপুরের জলধর মাহাতো, বাঘমুণ্ডির রহিদাস মাহাতো, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো এবং শালবনির বিমান মাহাতো— এই ৫ বিধায়ক কুড়মালি ভাষায় শপথ নিতে চেয়ে বিধানসভা সচিবালয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের জানানো হয় যে, আপাতত বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও সাঁওতালি ভাষার মধ্যেই বিকল্প বেছে নিতে হবে।
শালবনির বিধায়ক বিমান মাহাতো সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “আগের সরকার কুড়মালিকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সচিবালয়ে অনুবাদের কোনো ব্যবস্থাই রাখেনি। এটা আসলে কুড়মিদের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি।”
আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০১৮ সালে নোটিফিকেশন জারি হলেও যদি অনুবাদক না থাকে, তবে সেই আদেশনামার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে।” কুড়মি জনজাতির মানুষেরা এখন ঝাড়খণ্ডের উদাহরণ টেনে বলছেন, সেখানে কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়া সম্ভব হলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হবে না?
এই জটিলতা কাটাতে অনেকেই ১৯৯১-৯৯ সালের বিনপুরের বিধায়ক নরেন হাঁসদার উদাহরণ তুলে ধরছেন। তৎকালীন সময়ে সাঁওতালি অনুবাদক না থাকায় তিনি শপথ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। পরে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ অনুবাদক নিয়োগ করলে তবেই তিনি শপথ নেন। বর্তমান বিধায়কেরাও সেই পথেই হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
আগামী মঙ্গল ও বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। নতুন বিজেপি সরকার এবং বিধানসভা কর্তৃপক্ষ এই জটিলতা কাটাতে শেষ মুহূর্তে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
