মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: পুজোর আগে চা মালিকদের সংগঠনগুলিকে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ‘পরামর্শ’ দিয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। ঢোঁক গিলে সেই পরামর্শ মেনেও নিয়েছিলেন বাগান মালিকরা। এখন মালিকপক্ষের সংগঠন আইটিপিএ’র দাবি, ২০ শতাংশ হারে বোনাস দিতে গিয়ে ঋণজালে জড়িয়ে গিয়েছে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলি (Tea Backyard)। ওই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ৩৭টি বাগানের মধ্যে ৩২টি বাগানের ম্যানেজার মঙ্গলবার বীরপাড়ায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, চায়ের ন্যূনতম সহায়কমূল্য স্থির করা এবং চা বাগানগুলিকে আর্থিক সহায়তার দাবিতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হবেন। বুধবার এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাবে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার সংগঠনের কর্তারা জানান, বোনাস নিয়ে ওই পরামর্শ মানতে গিয়ে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বাগান পরিচালন সংস্থাগুলি। এখন তাহলে তাদের বাঁচাতে পদক্ষেপ করুক রাজ্য সরকার। তবে চায়ের মূল্য স্থির করার দায়িত্ব তো টি বোর্ডের, সেখানে রাজ্য সরকার কী করবে? আইটিপিএ’র ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মার মন্তব্য, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। তাই সমস্যা মেটানোর দাবিতে আমরা তাঁর দ্বারস্থ হতে চলেছি। আর্থিক সহযোগিতা সরাসরি কিংবা ব্যাংকের মাধ্যমেও হতে পারে। আমরা আশা করছি, মুখ্যমন্ত্রী সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। কারণ ২০ শতাংশ বোনাস দিতে গিয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে মালিকপক্ষ।’
সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতি কেজি চা উৎপাদনে খরচ ২৫০ টাকা এবং তার বেশি। অথচ সম্প্রতি মোট চায়ের ৮৩ শতাংশ বিক্রি হয়েছে ১৭৯.৯৫ টাকা কেজি প্রতি দরে। অথচ গত বছর ওই চা বিক্রি হয়েছিল ২১২ টাকা কেজি প্রতি দরে।
সংগঠনটি আরও জানায়, এবছর প্রাকৃতিক কারণে চা শিল্পে লোকসানের খাঁড়া নেমে এসেছে। একদিকে প্রয়োজনীয় অনুপাতে বৃষ্টি হয়নি। চড়া রোদে চা গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাপমাত্রার হঠাৎ বাড়া কমায় রোগপোকার আক্রমণ বেড়েছে। রোগপোকা দমন করতে কীটনাশক ব্যবহারে খরচ বেড়েছে। তার ওপর এবছরের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের হড়পায় একদিকে নদী এবং ঝোরার পাড়ভাঙনে চা বাগানের হেক্টরের পর হেক্টর জমি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। হাজার হাজার চা গাছ উপড়ে ভেসে গিয়েছে। পাশাপাশি, ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা ডলোমাইটমিশ্রিত জল জমেছে চা বাগানের জমিতে। এতে চা পাতা উৎপাদন দীর্ঘদিনের জন্য প্রভাবিত হবে, জানান ম্যানেজাররা। এদিন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগানগুলিতে ভাঙন রোধে পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।
