১৪ বছরের সম্পর্ক, লিভ ইন, ‘প্রেমিকা’ ছেড়ে যেতেই ‘আত্মঘাতী’ ব্যক্তি! ঢাকুরিয়ায় উদ্ধার দেহ

১৪ বছরের সম্পর্ক, লিভ ইন, ‘প্রেমিকা’ ছেড়ে যেতেই ‘আত্মঘাতী’ ব্যক্তি! ঢাকুরিয়ায় উদ্ধার দেহ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


অর্ণব আইচ:  ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ। তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতার লেক থানা এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি সুইসাইড নোটও। সেই কাগজে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ ঘটনার তদন্তে নেমে লেক থানার পুলিশ রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে এক মহিলার ১৪ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। মাঝে মধ্যেই তাঁরা ‘লিভ ইন’ করতেন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। সম্প্রতি ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। আর তার জেরেই ওই ব্যক্তি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন? ঘটনাটি নিয়ে ক্রমশ দানা বাঁধছে রহস্য। শুধু তাই নয়, ‘প্রেমিকা’কে বাঁচাতেই এহেন সুইসাইড নোট লেখা হয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। কিন্তু কী এমন ঘটল যে ওই মহিলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন হল? খতিয়ে দেখছেন লেক থানার আধিকারিকরা।

মৃত ওই ব্যক্তির নাম শুভাশিস চক্রবর্তী। বছর ৪২। পুলিশ সূত্রে খবর, আজ, বুধবার সকালে ঢাকুরিয়া স্টেশন লেনের একটি বাড়ি থেকে তীব্র গন্ধ বের হতে থাকে। এলাকাবাসীর সন্দেহ হতেই সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় লেক থানায়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ আধিকারিকরা। গন্ধের সূত্র সন্ধানে নামেন তাঁরা। আর তা খুঁজতে খুঁজতে বাড়ির তিনতলার একটি ঘরে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই তীব্র গন্ধ বের হচ্ছে দেখে দরজা ভাঙে পুলিশ। কার্যত দরজা ভাঙতেই চমকে ওঠেন। দেখেন সিলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে দেহ।

পুলিশের দাবি, গত শনিবার শুভাশিস চক্রবর্তী আত্মঘাতী হন। কিন্তু বাড়ি ফাঁকা থাকায়, তা কেউ বুঝতেই পারেনি। ফলে দেহটিতে পচন ধরে যায়। উগ্র গন্ধ বের হতে থাকে। কিন্তু কেন এই ঘটনা? তা খতিয়ে দেখতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ১৪ বছর ধরে শুভাশিসবাবুর সঙ্গে এক মহিলার সম্পর্ক ছিল। মাঝে মধ্যেই ওই মহিলা বাড়িতেও যেতেন। করতেন রাত্রিবাস। কিন্তু বিয়ে করার কোনও পরিকল্পনা ছিল না বলেই পুলিশ আধিকারিকরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার ওই মহিলা শেষবার এসেছিলেন। এরপরেই এই ঘটনা বলে অনুমান পুলিশের। কিন্তু সেদিন রাতে কী ঘটেছিল, যার জন্য স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে হল? সম্পর্কের টানাপড়েন নাকি অন্য কিছু? প্রয়োজনে ওই ‘রহস্যময়ী’কে জেরা করতে পারেন আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, শুভাশিসবাবুর বাবা সমর কুমার চক্রবর্তীও আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তাঁর পেনশনের টাকা পান মা। সেই টাকাতেই শুভাশিস চক্রবর্তীর চলত বলে জানতে পারেন আধিকারিকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *