উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে (Tamil Nadu Politics) বইছে প্রবল পরিবর্তনের হাওয়া। যে জোট দীর্ঘকাল দিল্লির মসনদ থেকে রাজ্যের পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত অটুট ছিল, ক্ষমতার সমীকরণে আজ তা খাদের কিনারে। ক্ষমতার মোহ যে কত দ্রুত পুরনো সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে থাকল এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এম কে স্ট্যালিনকে কার্যত অন্ধকারে রেখে দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে শুধু আলোড়নই তোলেনি, বরং ইন্ডিয়া জোটের অন্দরের ফাটলকেও প্রকট করে তুলেছে।
নির্বাচনী ফলাফল বলছে, তামিলভূমে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের টিভিকে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তারা জিতেছে ১০৮টি আসন। ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে তারা সামান্য দূরে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের ঝুলিতে এসেছে ৭৩টি আসন। বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর চিরাচরিত দ্রাবিড় রাজনীতিকে এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে। সূত্রের খবর, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে খোদ বিজয়ই (Thalapathy Vijay) কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের (KC Venugopal) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুধু কংগ্রেস নয়, ভিসিকে, সিপিএম, সিপিআই এবং আইইউএমএল-এর মতো দলগুলোর কাছেও সমর্থনের আর্জি জানান তিনি। লক্ষ্য একটাই—বিজেপিকে তামিলনাড়ু থেকে দূরে রাখা। আর এই অজুহাতকেই হাতিয়ার করে কংগ্রেস স্ট্যালিনের হাত ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
কংগ্রেসের এই ইউ-টার্নের নেপথ্যে কেবল বিজেপি ভীতি নয়, রয়েছে গভীর অভিমান এবং রাজনৈতিক স্বার্থ। দীর্ঘ সময় ডিএমকে-র জোটসঙ্গী হিসেবে থাকলেও তামিলনাড়ুর সরকারে কংগ্রেসের কোনো অংশীদারিত্ব ছিল না। স্থানীয় পুরসভা বা উন্নয়নমূলক বোর্ডগুলোতেও কংগ্রেস নেতাদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের একাংশ বারবার হাইকম্যান্ডকে জানিয়েছিলেন যে, ডিএমকে-র ছায়ায় থেকে কংগ্রেসের সাংগঠনিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাহুল গান্ধী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে বিজয়ের মতো তরুণ ও জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে কাজ করার পক্ষে ছিলেন। অবশেষে ভোটের ফলাফল আসতেই সেই সুযোগকে কাজে লাগাল এআইসিসি। শোনা যাচ্ছে, মাত্র ৫ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস বিজয়ের সরকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব দাবি করতে পারে।
এদিকে কংগ্রেসের এই ‘ডিগবাজি’তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ডিএমকে। স্ট্যালিনের দলের নেতাদের দাবি, চরম দুঃসময়ে তারা কংগ্রেসের পাশে থাকলেও, আজ ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস তাদের পিঠে ছুরি মারল। বিশেষ করে বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ডিএমকে। তাদের দাবি, বিজয় কখনও বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেননি বা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের এই জোটবদল কেবল নীতিহীনতাই নয়, বরং এক প্রকার রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে সংখ্যাতত্ত্ব। আর সেই সংখ্যার বিচারেই এখন স্ট্যালিনের পুরনো বন্ধুত্বের চেয়ে সুপারস্টার বিজয়ের নতুন বন্ধুত্বই কংগ্রেসের কাছে বেশি দামি হয়ে উঠেছে।
