উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) তিরুভাল্লুর (Thiruvallur) জেলায় একটি সিফুড প্রসেসিং ইউনিটে (সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র) ভয়াবহ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ফলে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ৪৬ জন শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাঁদের ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়ারপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপেয়ার এলাকায় অবস্থিত একটি কারখানায় রবিবার এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কারখানার ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইনের ‘মেজার ভালভ’ (Measure Valve) ফেটে বা লিক হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝালো অ্যামোনিয়া গ্যাস পুরো প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশই উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। গ্যাস লিক হওয়ার পরপরই শ্রমিকরা তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বমি করতে শুরু করেন। কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কারখানা চত্বর থেকে অসুস্থদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে একের পর এক আক্রান্ত শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। লোক ভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন: “তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়ারপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপেয়ার গ্রামের একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের এই দুঃখজনক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই দুর্ঘটনায় মূল্যবান কিছু প্রাণ হারিয়েছে এবং বহু শ্রমিক জখম হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যে পরিবারগুলি এই দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডিতে তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর যেন তাঁদের শক্তি ও সাহস দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত শ্রমিকের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানার সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

