এক মাসের কিছুটা সময় পেরিয়েছে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাতারাতি বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিটা। বদল শুধুই রাজনীতিতে নয়, বদল সংগঠনেও। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘে যোগদানে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। আরএসএস। কেউ কেউ নামটার সঙ্গে পরিচিত হলেও, অনেকেরই এই সংগঠন সম্পর্কে তেমন কোনও ধারনা ছিল না। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল আরএসএস কী? কী কাজ করে? পালাবদলের পর সেই ধারনা হয়ত একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছে। গত কয়েকদিনে যেভাবে এই সংগঠনে যোগ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে, তাতে সে কথাই মনে হচ্ছে।
শীর্ষ কর্তাদের কথায়, অনেকেই সংঘকে সাধারণ একটি রাজনৈতিক দল ভেবে ভুল করছে। রাষ্ট্র নির্মাণে আরএসএসের ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গত একমাসে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ। শুধুমাত্র বাংলা থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে এই আবেদন জমা পড়েছে। সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র ন’লক্ষ আবেদন এসেছে উত্তরবঙ্গ থেকে। সংঘের প্রতি বিপুল মানুষের এই আগ্রহ, তাতে অবাক আরএসএসের পদাধিকারীরাও৷ শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক বিস্তার কর্মসূচি নিয়ে রীতিমতো তাঁরা ভাবনা চিন্তাও শুরু করেছেন বলে খবর। আর এজন্য আগামী ২৮ জুন বিশেষ বৈঠকেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওইদিন সংঘের সর্বভারতীয় স্তরের বৈঠকে বিশেষভাবে বাংলাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপরেই যোগদান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আরএসএস সূত্রে দাবি।
সূত্রের খবর, যোগদানের বিষয়ে ধীরে চলো নীতি চায় আরএসএস। আবেদন করলেই যে যোগদান হয়ে যাবে, এমন চাইছেন না আরএসএসের পদাধিকারীরা। শীর্ষ কর্তাদের কথায়, অনেকেই সংঘকে সাধারণ একটি রাজনৈতিক দল ভেবে ভুল করছে। রাষ্ট্র নির্মাণে আরএসএসের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় নতুন প্রজন্মকে জাগ্রত করা হয়। চারিত্রিক গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে দেশ গঠনে কীভাবে কাজ করতে হবে তা শেখানো হয়। ফলে এক্ষেত্রে আরএসএসে যোগদানের বিষয়ে সর্বস্তরে আলোচনা করেই এগোতে চাইছেন পদাধিকারী। যাতে কোনও ‘বেনোজল’ ঢুকে ভাবাদর্শকে প্রশ্নের মুখে না ফেলে দেয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
একসময়ে তৃণমূলের সক্রিয়রা রাতারাতি রং বদলে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠনের সদস্য হতে নেমে পড়েছেন। আর তাই একেবারে নিজস্ব ‘ছাঁকনি’ ব্যবহার করেই সদস্য করার আগে দেখে নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল আমলে নেতৃত্ব দিয়েছে এরকম শিক্ষকদের নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সদস্য সংগ্রহে জোর দিচ্ছে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ বা এবিআরএসএম। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষক সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংগঠনের তরফে খবর। ২০২৬-২৭ সালে সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ। সরকার বদলের পর রাজ্যে স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আরএসএসের এই শিক্ষক সংগঠন। আর সদস্য হওয়ার উৎসাহ দ্রুত বাড়ায় সতর্ক এবিআরএসএম নেতৃত্ব। কারণ, একসময়ে তৃণমূলের সক্রিয়রা রাতারাতি রং বদলে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠনের সদস্য হতে নেমে পড়েছেন। আর তাই একেবারে নিজস্ব ‘ছাঁকনি’ ব্যবহার করেই সদস্য করার আগে দেখে নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল আমলে নেতৃত্ব দিয়েছে এরকম শিক্ষকদের নেওয়া হবে না। কিন্তু এবিআরএসএম নেতৃত্বের কথায়, এত দিন তৃণমূল বা বামেদের সংগঠনে যুক্ত ছিলেন বা থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন, এমন শিক্ষক অধ্যাপকদের স্বাগত।
এবিআরএসএম বিদ্যালয়ের শিক্ষার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, “ভারতের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সংগঠন হল এবিআরএসএম। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৯২ সাল থেকে এই সংগঠন বৈভবশালী রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে সুযোগ্য নাগরিক নির্মাণ ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে যুগ উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কাজ করে আসছে।” বাপি প্রামাণিকের কথায়, “গত বছর আমাদের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কাছাকাছি। এবার ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার তিনদিনের মধ্যেই সদস্য সংখ্যা ৪০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বছর সদস্য সংখ্যা দেড় লক্ষে পৌঁছবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর

