Tamanna Khatun | ‘মেয়ের বিচার চাই!’ হাসপাতাল থেকে ফিরেই লড়াকু মেজাজে সাবিনা

Tamanna Khatun | ‘মেয়ের বিচার চাই!’ হাসপাতাল থেকে ফিরেই লড়াকু মেজাজে সাবিনা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক:  মাস ছয়েক আগে বোমাবাজিতে প্রাণ হারিয়েছিল একরত্তি মেয়ে তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun)। সেই শোক সইতে না পেরে এবং বিচার না পাওয়ার হতাশায় বিষণ্ণ হয়ে গত কয়েকদিন আগে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। আজ, বুধবার হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর ঘরে ফিরেই ফের রণংদেহি মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মেয়ের খুনিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করার আর্তি জানিয়েছেন তিনি।

মাস ছয়েক আগে তৃণমূলের একটি বিজয়োৎসব চলাকালীন বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফেরার সময় সেই বোমার আঘাতেই মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্নার। সেই ঘটনার পর থেকেই বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাবিনা ইয়াসমিন। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মন্থর গতিতে তিনি ক্ষুব্ধ। সাবিনা বিমর্ষ কণ্ঠে বলেন, “আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী যেন আমাকে একটু সময় দেন। মেয়ের শোকে আমার যে কী অবস্থা, সেটা হয়ত উনি এখনও বুঝতে পারছেন না।”

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারি আইনজীবীর (পিপি) কার্যকলাপে তিনি সন্তুষ্ট নন। জেলা পুলিশ সুপারের কাছে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও এখনও পিপি পরিবর্তন করা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। সাবিনার দাবি, ১৪ জনের নামে অভিযোগ থাকলেও পুলিশের চার্জশিটে অনেক অসংগতি রয়েছে। পুলিশ মাত্র কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে, বাকিরা এখনও অধরা।

পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, পুলিশের এই ‘নিষ্ক্রিয়তার’ সুযোগ নিয়ে ধৃতরা শীঘ্রই জামিনে মুক্তি পেয়ে যাবে। আর অভিযুক্তরা জামিন পেলে তাঁদের ওপর ফের প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে বলে তাঁরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মূলত এই অনিশ্চয়তা এবং বিচার না পাওয়ার ভয় থেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন সাবিনা।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে তিনি সাফ জানিয়েছেন, মেয়ের বিচার পাওয়ার জন্য তিনি প্রয়োজনে আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। এখন দেখার, একজন শোকাতুর মায়ের এই কাতর আবেদন নবান্ন (Nabanna) বা স্থানীয় প্রশাসনের কানে পৌঁছায় কি না। অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *