নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: নীরবতার পরেও স্বপ্ন বেঁচে থাকে, আর নতুন করে পথ চলার ইচ্ছেটাও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) দেওয়া পোস্টে স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman) লিখেছেন। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে ফের জোরকদমে চর্চা শুরু। খেলাধুলো ছেড়ে স্বপ্না তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজে জেতেননি, দলও খুব খারাপভাবে হেরেছে। মাঝখান থেকে রেলের সাধের চাকরিটা তাঁকে খোয়াতে হয়েছে। রাজনীতির ময়দান তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন বলে পরে স্বপ্না এই সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তিনি শিলিগুড়ির শিবমন্দিরে পদ্মশ্রী সম্মানিত নগেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়িতে যান। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে রাজগঞ্জের পরাজিত তৃণমূল (TMC) প্রার্থী জানান, খেলাধুলো থেকে অবসর নেওয়ার পরে জীবনের একটা অধ্যায় শেষ হয়েছে। তারপর কিছুদিন তিনি নীরবে থেকেছেন। এই নীরবতার মধ্যে তাঁকে অনেক কিছু দেখতে হয়েছে, তিনি ভেবেছেন এবং নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছেন। তাঁর পোস্টে আরও লেখা, ‘জীবন থেমে থাকে না। একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার পরে অন্য একটি অধ্যায়ের দরজা খুলে যায়।’
তাহলে কি সেই নতুন দরজা? তিনি কি আবারও রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন? নাকি তাঁকে খেলার জগতের নতুন কোনও ভূমিকায় দেখা যেতে পারে? যদিও এই ধরনের প্রশ্নের উত্তরে স্বপ্না শুধু অপেক্ষার কথাই বলেছেন। তবে নগেন্দ্রনাথের কথায় সেই প্রশ্নের উত্তরের কিছুটা আভাস মিলেছে। তাঁর কথায়, ‘স্বপ্নার নতুন করে শুরু বলতে তাঁকে আগামীদিনে কোচ বা ক্রীড়া প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে।’ নগেন্দ্রনাথ তাঁকে সেটাতেই মনোনিবেশ করতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন। যদিও স্বপ্না সেই কথা পুরোপুরি স্বীকার করেননি। সোনাজয়ী এই অ্যাথলিটের কথায়, ‘প্রচুর মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা তো ফেলতে পারি না। পথ খোলা রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’
নগেন্দ্রনাথের আরও দাবি, স্বপ্না তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় হেরে গিয়ে অনুশোচনা করেছেন। সেই অনুশোচনায় স্বপ্নার মুখে উঠে এসেছে তাঁর রাজনীতিতে যাওয়া ভুল ছিল এবং সেই ভুলের মাশুল তাঁকে পরবর্তীতে দিতে হয়েছে। স্বপ্না অবশ্য অনুশোচনার বিষয়টি সেভাবে স্বীকার করেননি। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘সেই সময় যা হয়েছে তা নিয়ে আর অনুশোচনা করতে চাই না।’ তবে স্বপ্নাকে কোচ হিসেবে যেমন দেখা যেতে পারে, তেমনই তিনি যে রাজনীতি একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন এমনটাও স্পষ্ট করেননি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বপ্না লিখেছেন, ‘শুভ দিনটাতে শ্রদ্ধেয় পদ্মশ্রী প্রাপ্ত নগেন্দ্রনাথ রায় (জেঠু)-এর সঙ্গে এই সুন্দর মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে গিয়ে মনে হলো—জীবনে কিছু মানুষের সান্নিধ্য আমাদের আবার নতুন করে অনুপ্রাণিত করে। জীবন থেমে থাকে না। একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার পর অন্য একটি অধ্যায়ের দরজা ধীরে ধীরে খুলে যায়।’ কীভাবে নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে? অনুরাগীদের নানা মত। বেশির ভাগই অবশ্য স্বপ্নার পোস্টকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

