নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: উত্তরবঙ্গে কোচবিহার জেলার দিনহাটায় (Dinhata) সম্প্রতি পাক চর বা স্লিপার সেলের পান্ডা সন্দেহে কয়েকজনের গ্রেপ্তারিতে স্পষ্ট, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে নিঃশব্দে বিশাল নাশকতার জাল বুনছে পাকিস্তান। সেই নাশকতা ব্যর্থ করতে আন্তঃরাজ্য অভিযানে নজিরবিহীন সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI module busted) সমর্থিত কুখ্যাত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে কার্যত শিকড় সমেত উপড়ে ফেলল ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী।
স্বাধীনতা দিবসের ঠিক মুখে ১৪টি রাজ্যে একযোগে অভিযানে ২৫০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’শোরও বেশি জঙ্গি সহযোগীকে। রুজু হয়েছে ৮০টির বেশি এফআইআর। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা এক্স হ্যান্ডেলে এই মেগা অপারেশনের উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আইএসআই-এর মদতপুষ্ট এই মডিউলের কাছ থেকে আইইডি, ড্রোন, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি গ্রেনেড, পিস্তল ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
গুপ্তচরবৃত্তির জন্য একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাও ব্যবহার করছিল এরা। এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহজাদ ভাট্টি আসলে পাকিস্তানে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা এক গ্যাংস্টার, যে এখন পাক সেনার অঙ্গুলিহেলনে সরাসরি জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে অপর এক পাক নাগরিকের সাহায্যে ভারতের আনাচে-কানাচে স্লিপার সেল তৈরি করছিল সে। দিনহাটার সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র ও ভুয়ো নথির লেনদেন এই মডিউলের কাছে জলভাত।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, পুলিশের সদর দপ্তর, সেনার ক্যাম্প এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান রেকি করার জন্য স্থানীয় তরুণদের মাসোহারা দিয়ে কাজে লাগিয়েছিল ভাট্টি গ্যাং। উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, বিহার ও কেরলে জাল বিস্তার করেছিল এরা। গত ১২ অগাস্ট রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং করে অপারেশন চালানো হয়। জাতীয় সুরক্ষার এই মহাজাল বুঝিয়ে দিল, উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনপদগুলো থেকে শুরু করে খাস রাজধানী- কোথাও নজরদারি আলগা করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

