মালবাজার: একদিকে যখন কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাইয়ের মহাসমাবেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক সেই সময় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মালবাজার পুরসভার (Mal Municipality) প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা স্বপন সাহা (Swapan Saha arrested)। শুধু প্রাক্তন চেয়ারম্যানই নন, এই মামলায় মাল টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা পুরকর্মী অমিত দে সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির (Dhupguri) এক ঠিকাদার মালবাজার থানায় একটি লিখিত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের আটক করে মালবাজার থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাল পুরসভায় সোলার লাইট লাগানোর নামে ভুয়ো ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও প্রতারণা করা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বপন সাহা ও অমিত দে ছাড়াও পুরকর্মী সুমন চ্যাটার্জী, কুনাল কর্মকার এবং সুমিত দে নামে আরও তিনজনের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ জেরা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ সকলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আইনি নিয়ম মেনে অভিযুক্তদের মালবাজার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপর তাদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে এই গ্রেপ্তারের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র তর্জা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পুরকর্মীদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে চক্রান্ত রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কত টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

