রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: মাল পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহাকে (Swapan Saha) ফেরানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তৃণমূল (TMC)। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য গৌতম দেবকে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্বপনকে দলে ফেরানো আদৌ ঠিক হবে কি না, তাঁকে নিয়ে দলের স্থানীয় স্তরে নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন, এসব সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য গৌতমকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বিষয়টি কিছুই বলতে চাননি গৌতম। তিনি এদিন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সকালে ডেকেছিলেন। বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
১২০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত বছর সেপ্টেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করা হয় মাল পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনকে। তারপরেও অবশ্য তিনি চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ। দীর্ঘ টালবাহানার পর ৩১ জানুয়ারি স্বপন চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন।
স্বপনের দাবি, চক্রান্ত করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর প্লাবনের পরদিনই মুখ্যমন্ত্রী নাগরাকাটার কালীখোলা এসেছিলেন। সেখানেই জনতার মাঝখান থেকে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করার চেষ্টা করেন স্বপন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দেন। স্বপন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘দিদি আপনাকে একবার প্রণাম করতে চাই। আমাকে শাস্তি দিন, কিন্তু দলে ফিরিয়ে নিন।’ দলনেত্রী অবশ্য সেই সময় স্বপনের দিকে ফিরেও তাঁকাননি। দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী নাগরাকাটার বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে মালবাজারে এলে স্বপন আবার তাঁর কাছে ফের আর্জি জানান। তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন, ‘মামলা সামলাও।’
মুখ্যমন্ত্রী সকালে উত্তরকন্যায় গৌতম দেবকে ডেকে পাঠান। গৌতম উত্তরকন্যার অতিথি নিবাস কন্যাশ্রীতে গিয়ে দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। কিছুক্ষণ সেখানে কাটিয়ে গৌতম হেঁটে কন্যাশ্রী থেকে উত্তরকন্যায় সচিবালয়ে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর কাছে আবার ফোন আসে। ফোন পেয়েই আবার গৌতম কন্যাশ্রীতে যান। সেখান থেকে শিলিগুড়িতে ফেরেন।
সূত্রের খবর, স্বপনকে দলে ফেরানো এবং জলপাইগুড়িতে সৈকতের বিতর্কিত ভিডিও, দুটি বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রী গৌতমের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে দাবি, সামনেই বিধানসভা ভোট রয়েছে। তার আগে স্বপনকে দলে ফেরালে সংগঠন শক্তিশালী হবে, নাকি দলের অন্য শিবির বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে, সেটাই মূলত গৌতমকে দেখতে বলা হয়েছে।
