উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ সোমবার তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়াল। তমলুকের মাটি থেকে আসন্ন হলদিয়া পুরসভা নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে হুংকার ছাড়লেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, হলদিয়া পুরসভার প্রতিটি আসনেই জয় নিশ্চিত করতে হবে এবং শাসকদলকে একেবারে ‘বাটি হাতে’ খালি হাতে ফেরত পাঠাতে হবে।
এদিনের দলীয় কর্মসূচি থেকে শুভেন্দু অধিকারী কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সামনেই হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনে জেলার সমস্ত স্তরের কর্মীরা একেবারে কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন এবং ৩০টি আসনেই বিরোধীদের সম্পূর্ণ শূন্য করে দিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একেবারে খালি হাতে বাটি নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করতে হবে। আমাদের অতীতে প্রচুর ক্ষতি করা হয়েছে, তাই আগামী দিনে যাতে তাঁরা আর কোনও ধরনের ক্ষতি করার সুযোগ না পান, সেই বন্দোবস্ত আপনাদেরই করতে হবে।”
এর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকুন, যাতে দিমাগী নকশাল, টুকরো টুকরো গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী এবং সমাজের ক্ষতিকর শক্তিগুলো কোনও ভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে বংশবিস্তার করতে না পারে।”
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সদ্য সমাপ্ত দুর্গোৎসবের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এ বছর রাজ্যজুড়ে মোট ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “চোরবাগানের এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় ১৯ জন সহনাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছিলেন। আমরা ওই ২৫ জন আহত মানুষকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেছি। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়েছি এবং তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছি।”
রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে শুভেন্দু জানান যে, এই গভীর দুঃখ ও বেদনার মধ্যেও প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় রাজ্যে ৬৬ হাজার সফল পুজো করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি কাউকে আদালতের দ্বারস্থ না করিয়েই এ বছর নজিরবিহীনভাবে নতুন করে প্রায় ১৩ হাজার পুজোকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে তিনি দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেন যে, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁদের লড়াই সবসময় জারি থাকবে।

