উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে সংযোগকারী ‘চিকেন নেক’ (Hen’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে এবার মুখ খুললেন ঈশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু (Sadhguru)। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ২২ কিলোমিটার চওড়া করিডরটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের এক “অসঙ্গতি” (anomaly), যা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়েই সংশোধন করা উচিত ছিল।
ভৌগোলিক দুর্বলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা:
সদগুরু উল্লেখ করেন যে, শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেক বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা, যেখানে সম্প্রতি ভারতের প্রতি বিদ্বেষ এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর বর্তমানে যে খোলাখুলি হুমকি আসছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংকীর্ণ করিডরটিকে আর দুর্বল রাখা চলে না। তাঁর ভাষায়, “এখন সময় এসেছে এই ‘মুরগি’টিকে (চিকেন) পুষ্টি জুগিয়ে ‘হাতি’তে (এলিফ্যান্ট) পরিণত করার।” অর্থাৎ, এই অঞ্চলের ভৌগোলিক বিস্তার ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
১৯৭১ সালের ‘হারানো সুযোগ’!
সদগুরু বলেন, ১৯৪৬-৪৭ সালে হয়তো ভারতের হাতে এই সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় ভারতের কাছে সেই ক্ষমতা ছিল। তিনি এটিকে একটি “মিসড অপরচুনিটি” বা হারানো সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কোনো জাতি বা রাষ্ট্র দুর্বলতার ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকতে পারে না। জাতীয় সংহতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা থাকা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট:
বিশ্বায়ন বা সীমান্তহীন পৃথিবীর ধারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি সুন্দর স্বপ্ন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এখনই বর্ডারলেস পৃথিবীর কথা ভাবাটা বোকামি। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ একে অপরকে আপন করে নিতে পারছে না, ততক্ষণ নিজের সীমানা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি করিডরের (Siliguri Hall) বিকল্প হিসেবে ভারত সরকার ‘কালাদান মাল্টি-মডেল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’-এর কাজ চালাচ্ছে, যা কলকাতা থেকে মায়ানমার হয়ে মিজোরামকে সংযুক্ত করবে। তবে মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে সেই প্রকল্পের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সদগুরুর এই মন্তব্য জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
