উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয় নায়ক ও বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করার জেরে কোণঠাসা হয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj apology Netaji feedback)। তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অনন্ত মহারাজ যে কাজ করেছেন তা আদতে ‘ক্ষমার অযোগ্য’।
নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন অনন্ত মহারাজ। সেই ভিডিয়োর ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিডিয়োবার্তা’। ওই বার্তায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করে জানান, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর অনিচ্ছাকৃত মন্তব্যের কারণে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে মন্তব্য করার সময় আরও সতর্ক থাকবেন।
শুক্রবার ভবানীপুরে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ওঁর বয়স দেখে আমি বলব, উনি কাল মধ্যরাতে যেটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করেছেন, সেটাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখা উচিত। উনি নিজেও বলেছেন, পরবর্তী মন্তব্যের সময় সতর্ক থাকবেন। সেটা ভালো।’’ তবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘উনি ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। তবে উনি একজন বর্ষীয়ান মানুষ, সিনিয়র নাগরিক।’’
নেতাজিকে অবমাননা করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই আইনি কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন আইনের পথেই চলবে। ইতিমধ্যেই মোট ছ’টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ২৮২টি অবমাননাকর পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়েছিল।
এই পুরো বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। পদ্মশ্রী সম্মানিত স্বামী প্রদীপ্তানন্দজি মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘কংগ্রেস নেতাজিকে বহিষ্কার করেছিল। বামফ্রন্টও নেতাজিকে অপমান করেছে। আর এখন যাঁরা নেতাজিকে নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন, তাঁদের আগে ইতিহাস জানা প্রয়োজন।’’ এমনকি অনন্ত মহারাজ প্রসঙ্গে তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘‘অনন্ত মহারাজ কোথাকার কে?’’
অন্যদিকে, মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এই বিষয়ে কিছুটা নমনীয় সুর চড়িয়ে বলেন, ‘‘কেউ যদি ভুল স্বীকার করেন তা হলে আমি এবং সমাজ ততটাই উদার। ভুল স্বীকার করা বা ক্ষমা চাওয়াকেও সম্মান দেব। এটা কোনো ইগোর লড়াই নয়। আর গ্রেপ্তার করলেই ভালো, এমনটাও নয়। আমার মনে হয়, ভুল স্বীকার করেছেন। ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ব্যস মিটে গিয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করা উচিত নয় যা নিয়ে অনাবশ্যক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।’’

