বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা: বছর দশেকের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙ্গা শহরে ফিরছে সুটুঙ্গা নদীর বুকে নৌকায় করে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সেই চিরচেনা ও ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য (Sutunga River Immersion)। একসময় শহরের যেকোনও দুর্গাপুজোর জাঁকজমককে ছাপিয়ে যেত এই বিশেষ দশমীর বিসর্জন পর্ব। কিন্তু কালক্রমে নিরাপত্তার কারণে প্রায় এক দশক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবিহার ও প্রতিমা বিসর্জনের প্রথা। শহরবাসীর বহুদিনের সেই আকুল দাবি ও স্থানীয় বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanik) প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই প্রথা ফের বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
গোটা বিসর্জনপর্বকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে মঙ্গলবার মাথাভাঙ্গা নজরুল সদনে স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিমা নিরঞ্জন পরিচালন কমিটি এবং বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই সামগ্রিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর সুটুঙ্গা নদীর বুকে মোট সাতটি পুজো কমিটির প্রতিমা নৌকায় চাপিয়ে নিরঞ্জন করা হবে। প্রতিটি নৌকায় সর্বোচ্চ ৩০ জন ব্যক্তির উপস্থিত থাকার অনুমতি রয়েছে। তবে উৎসবের মেজাজে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। নৌকায় চড়ে বিসর্জনের সময় ডিজে বাজানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নৌকায় ওঠা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে আতশবাজি প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। নিরঞ্জন ঘাটমুখী রাস্তা থেকে শুরু করে নদী চত্বরে কড়া নজরদারির জাল বিছানো হচ্ছে। যেকোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকবে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ), দমকল কর্মী এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল। সব মিলিয়ে দীর্ঘ এক দশকের আক্ষেপ মুছে বুধবার দুপুর থেকেই সুটুঙ্গা নদীর জলরাশির বুকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা মাথাভাঙ্গা শহরবাসী।

