উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Company) অন্দরে আচমকাই বড়সড়ো রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত। বুধবার হঠাৎই পুরভবনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ এবং পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য অরূপ চক্রবর্তী (Sushanta Ghosh-Arup Chakraborty)। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়ে দু’জনেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার দুপুরে সুশান্ত এবং অরূপকে একসঙ্গে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের দপ্তরের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরসভার অন্দরে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা। তাঁদের বক্তব্য, আজকের হার মানতে না পারলে, ২০২১ এর জয়ও মিথ্যা। মানুষের ভোট বিপক্ষে গিয়েছে, এটা মানতে হবে। দলের ছেলেরা ঘরছাড়া, পাশে নেই তৃণমূল নেতারা। এত মন্ত্রীরা ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা যেত না। এখন তাঁরা কোথায়? জানা গিয়েছে, বরো চেয়ারম্যান কিংবা কমিটির সদস্য পদ ছাড়লেও, তাঁরা কাউন্সিলর পদ ছাড়ছেন না।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই একইভাবে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবলীনা বিশ্বাস। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সুশান্ত ও অরূপের এই পদত্যাগ কলকাতা পুরসভার তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল।
মেয়রের ঘরে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর মূলত সুশান্ত ঘোষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই। একইসঙ্গে, দেবলীনা বিশ্বাসের পর সুশান্ত ও অরূপের এই পদক্ষেপ কি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড়ো ভাঙনের ইঙ্গিত? নাকি সবটাই নির্বাচনী কৌশল বা ব্যক্তিগত কোনো কারণ—তা সময়ই বলবে। আপাতত কলকাতার পুর-রাজনীতিতে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
