উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের কোটি কোটি ছাত্রীর মর্যাদা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ঋতুকালীন স্বাস্থ্য (Menstrual Well being) কোনো দয়া বা দান নয়, বরং সংবিধানের চোখে এটি একটি মৌলিক অধিকার। এই মর্মে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় প্রকার স্কুলেই ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করতে হবে।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় ‘জীবনের অধিকার’-এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যের অধিকার। এছাড়া ১৪ নম্বর ধারায় (সমতার অধিকার) এবং ২১-এ ধারায় (শিক্ষার অধিকার)-এর নিরিখেও এই সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচারপতিরা বলেন, “স্কুলে আলাদা শৌচাগার বা স্যানিটারি প্যাডের অভাব শিশুকন্যার মর্যাদা ও গোপনীয়তাকে আঘাত করে। এটি তাকে শিক্ষার সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।” আদালত সাফ জানিয়েছে, এই বঞ্চনার দায় ছাত্রীদের নয়, বরং ব্যবস্থার।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত ছাত্রীর জন্য স্কুলে বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখতে হবে। প্রতিটি স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত জলসহ আলাদা শৌচাগার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) পড়ুয়াদের জন্য উপযোগী শৌচালয় থাকা বাধ্যতামূলক। স্কুলে অতিরিক্ত ইউনিফর্ম এবং মাসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখতে হবে, যাতে হঠাৎ সমস্যায় পড়লে ছাত্রীরা তাৎক্ষণিক সহায়তা পায়।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিক্ষা অধিকার আইন (RTE Act, 2009) অনুযায়ী এই মানদণ্ড বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো বেসরকারি স্কুল এই নির্দেশ অমান্য করে, তবে তাদের স্বীকৃতি বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে। রাজ্য সরকারগুলিকেও এই নির্দেশ পালনের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
জয়া ঠাকুরের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা বলেন, এই নির্দেশ কেবল প্রশাসনের জন্য নয়, বরং সেই সব মেয়েদের জন্য যারা লজ্জায় মুখ বুজে থাকে বা সুযোগের অভাবে ঋতুকালে স্কুলে যেতে পারে না। আদালতের ভাষায়, “সমাজের অগ্রগতি মাপা হয় দুর্বলতমদের সুরক্ষার ভিত্তিতে।”
