উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিধায়ক বা সাংসদদের সংখ্যাধিক্য কিংবা পরিষদীয় দলের গরিষ্ঠতা মানেই আসল রাজনৈতিক দলের মালিকানা বা প্রতীক দখল নয়! শিবসেনার (Shiv Sena) দলীয় ভাঙন এবং প্রতীক সংক্রান্ত মামলায় এমনই এক যুগান্তকারী ও স্পষ্ট বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court docket)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আইনি লড়াই বা দলত্যাগের বিচারে পরিষদীয় শক্তির চেয়ে মূল রাজনৈতিক দল এবং তার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই সর্বেসর্বা। এই পর্যবেক্ষণের পরই জাতীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে এর চওড়া ছায়া এসে পড়েছে বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায়, যেখানে তৃণমূল (TMC) দলটির নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্ব চলছে।
মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডে শিবিরের দ্বন্দ্ব এবং প্রতীক বরাদ্দের মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে যে,
- আইন অনুযায়ী মূল সংগঠনের নিয়ন্ত্রণই পরিষদীয় দলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
- কেবল বিধানসভা বা সংসদে গরিষ্ঠতা রয়েছে বলেই কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাতারাতি ‘আসল দল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে না।
- প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রেও মূল রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মহারাষ্ট্রের এই আইনি মডেল বা তত্ত্ব সামনে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বাংলার শাসকশিবিরে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হতে শুরু করে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ। ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বকে এড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গড়ে তোলেন এবং বিধানসভায় নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেন। এমনকি কালীঘাটকে পাশ কাটিয়ে পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন পদে বসানো হয়। পরবর্তীতে এই ঋতব্রত-শিবির তৃণমূলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিজেদের দখলে নিতে নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়ে।
যদিও ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিদ্রোহী দলবলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, তবুও খাতায়-কলমে দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে আসছে। এতদিন পরিষদীয় সংখ্যাকে পুঁজি করে বিদ্রোহী শিবির রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করলেও, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এই পর্যবেক্ষণ সেই ভিত্তিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
শীর্ষ আদালতের এই স্পষ্ট বার্তা বলছে, সংখ্যায় বেশি হলেই মূল দলকে কোণঠাসা করা বা প্রতীক কেড়ে নেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের এই বার্তাকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের অন্দরে চলা বাংলার ‘জোড়াফুল’ সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে কোন পক্ষ শেষ হাসি হাসে।

