উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকার (US) বিরুদ্ধে সদ্য স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ। আর এই অভিযোগ তুলেই লেবাননে (Lebanon) অব্যাহত ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের (Israeli Strikes) তীব্র প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আবারও বন্ধ ঘোষণা করল ইরান (Iran)। শনিবার ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ওয়াশিংটন চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়ন না করে চরম ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ করেছে। একই সঙ্গে লেবাননে ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আগ্রাসন চললে পরবর্তী পরিকল্পনাও কার্যকর করা হবে।
এদিকে, শনিবারই লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় দুই শিশু সহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইজরায়েলের দাবি, হেজবোল্লা রাতভর ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার জবাবেই তারা এই বিমান হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল, যার আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই সহিংসতা চুক্তিটিকে পুরোপুরি ভেস্তে দেওয়ার মুখে ফেলেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির সাফল্যের অন্যতম শর্ত। তবে ইজরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তির অংশ নয় এবং হেজবোল্লা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পূর্বনির্ধারিত পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অথচ কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে চলেছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। তবে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রধান এই করিডোরটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে তা কার্যত স্পষ্ট।

